তৃণমূলের শুদ্ধিকরণ অভিযান! গত কয়েকদিন ধরেই জলপাইগুড়ি জেলার মালবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান স্বপন সাহার বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। শেষমেষ মঙ্গলবার তাঁকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিল তৃণমূল। স্বপনের বিরুদ্ধে ঠিক কী কী অভিযোগ রয়েছে?
টাকা নিয়ে অযোগ্যদের চাকরি পাইয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে আবাস যোজনার টাকা তছরুপ, মার্কেটের বিভিন্ন দোকান থেকে তোলাবাজি সহ অবৈধ নির্মাণের ছাড়পত্র, মালবাজার পুরসভার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই। সূত্রের খবর, তিনি ১২০ কোটি টাকার বেশি আর্থিক দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত। আর এই বিষয়টি নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে বেশ কয়েকদিন ধরেই চাপানউতোর চলছিল। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে স্বপনকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল তৃণমূল।
জলপাইগুড়ি জেলা তৃণমূলের সভাপতি তথা জেলা পরিষদের অন্যতম সদস্যা মহুয়া গোপ এ বিষয়ে জানিয়েছেন, ‘‘উত্তরবঙ্গে গত লোকসভা নির্বাচনে খারাপ ফল হয়েছে। তার উপর স্বপনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মহল থেকে দুর্নীতির নানা অভিযোগ আসছিল। সেই কথা দলের উচ্চ নেতৃত্বের কাছে পৌঁছেছে। তাই সব দিক বিচার করে তাঁকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল রাখতেই এমন সিদ্ধান্ত। যাঁরা দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করবেন, তাঁদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না।’’
স্বপন অবশ্য দলের সিদ্ধান্তকে মাথা পেতে মেনে নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘‘দুর্নীতি প্রমাণ করে দেখান। আমার দু’টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট। প্রয়োজনে পাসবই খতিয়ে দেখা হোক কোন অ্যাকাউন্টে টাকা রয়েছে। ষড়যন্ত্র করে আমায় ফাঁসানো হয়েছে। দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে দলে কাজ করেছি। তবে দল যা সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটাই মেনে নেব।’’ বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেছেন, “মালবাজারের মাল হয়তো ঠিকমতো মাল দেননি! তাই বহিষ্কার করেছে। উনি হয়তো একাই মাল খাচ্ছিলেন উপরে দিতে হতো।”



