গেরুয়া পোশাক, কপালে তিলক। চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়ছে জল। সামনে ধীরে ধীরে পঞ্চভূতে বিলীন হচ্ছেন মা। শ্মশানে দাঁড়িয়ে নিজেকে আর ধরে রাখতে পারলেন না সন্ন্যাসী চিন্ময়কৃষ্ণ দাস। হাউহাউ করে কেঁদে উঠলেন তিনি। পাশে থাকা অন্য সন্ন্যাসীরা তাঁকে বুকে টেনে নিলেও মাতৃশোকে ভেঙে পড়া চিন্ময়ের কান্না থামেনি।
চিন্ময়ের মা সন্ধ্যারানি ধর (৭১) বৃহস্পতিবার সকালে মারা যান। মৃত্যুশয্যায় মাকে শেষবারের মতো দেখতে চেয়েছিলেন জেলে বন্দি চিন্ময়। সেই কারণে চট্টগ্রাম আদালতে জামিনের আবেদনও করা হয়েছিল। কিন্তু সেই সময় তাঁকে মায়ের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
মায়ের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর প্যারোলে মুক্তির আবেদন করেন চিন্ময়। শেষ পর্যন্ত পাঁচ ঘণ্টার জন্য তাঁকে মুক্তির নির্দেশ দেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট। জেল থেকে বেরিয়েই তিনি সোজা চলে যান চট্টগ্রামের হাটহাজারীর মেখলের পুণ্ডরীক ধামে।
সেখানেই আয়োজন করা হয়েছিল সন্ধ্যারানি ধরের শেষকৃত্যের। পুণ্ডরীক ধামে পৌঁছে প্রথমে মন্দিরে যান চিন্ময়। এরপর পাশে থাকা শ্মশানে মায়ের শেষকৃত্যের স্থানে পৌঁছন তিনি।
মায়ের মৃতদেহ সামনে দেখেই আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। শ্মশানে দাঁড়িয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে শুরু করেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই কান্না আরও তীব্র হয়ে ওঠে। উপস্থিত সন্ন্যাসীরা তাঁকে সামলানোর চেষ্টা করেন। কেউ তাঁকে বুকে জড়িয়ে ধরেন, কেউ মাথায় ও গায়ে হাত বুলিয়ে দেন।
তবে মায়ের শেষ বিদায়ের সেই মুহূর্তে কোনওভাবেই নিজেকে সামলাতে পারছিলেন না চিন্ময়। গার্হস্থ্য জীবন বহু আগেই ছেড়েছেন তিনি। কিন্তু সন্ন্যাসজীবনেও মায়ের প্রতি সন্তানের টান যে অটুট, শ্মশানের সেই দৃশ্যেই যেন তারই প্রকাশ ঘটল।
চিন্ময়কৃষ্ণ দাস ২০২৪ সাল থেকে জেলবন্দি। রাষ্ট্রদ্রোহিতা-সহ একাধিক অভিযোগে ওই বছর তাঁকে গ্রেফতার করে ঢাকা পুলিশ। পরে একটি মামলায় জামিন পেলেও তাঁর বিরুদ্ধে থাকা অন্য মামলাগুলির আইনি প্রক্রিয়া চলতে থাকে। সেসব মামলায় জামিন না মেলায় মুক্তিও পাননি তিনি।
গ্রেফতারের পর থেকে চট্টগ্রামের জেলেই ছিলেন চিন্ময়। মায়ের শেষকৃত্যে যোগ দেওয়ার জন্য পাওয়া পাঁচ ঘণ্টার প্যারোলই ছিল দীর্ঘ বন্দিজীবনের মধ্যে তাঁর জন্য বিশেষ একটি মুহূর্ত। সেই কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মাকে শেষবারের মতো বিদায় জানিয়ে ফের জেলে ফিরে যেতে হয়েছে তাঁকে।



