বিশ্বের নানা প্রান্তে যখন ধর্মীয় বিদ্বেষ, সংঘাত ও বিভেদের ঘটনা বাড়ছে, তখন জন্মাষ্টমীর মঞ্চ থেকে সম্প্রীতির বার্তা দিলেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগির। তাঁর বক্তব্য, সত্য, ন্যায়, মানবতা ও কল্যাণের প্রতীক শ্রীকৃষ্ণের দর্শন থেকেই এই সংকট মোকাবিলার শিক্ষা নিতে হবে।
জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে শুভেচ্ছা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি শান্তিপূর্ণ, মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রত্যেককে নিজের জায়গা থেকে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার বার্তাও দেন তিনি।
রাষ্ট্রপতির কথায়, শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথি সকলের অংশগ্রহণে আনন্দ ও উৎসবের আবহ তৈরি করুক। তাঁর আশা, এই উৎসব বাংলাদেশের সমাজে ধর্মীয় সম্প্রীতি এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্যকে আরও শক্তিশালী করবে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগির বলেন, বাংলাদেশ ঐতিহাসিক ভাবেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। অসাম্প্রদায়িকতা এবং ঐক্যবোধ দেশের সমাজ ও সংস্কৃতির অন্যতম শক্তি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের মানুষ পরস্পরের ধর্ম ও বিশ্বাসের প্রতি সম্মান রেখে নিজ নিজ ধর্মীয় আচার পালন করে আসছেন বলেও বক্তব্যে তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি। তাঁর মতে, সব ধর্মের মূল লক্ষ্যই মানবকল্যাণ, তাই সেই কল্যাণের কাজে সকলের যুক্ত হওয়া প্রয়োজন।
শ্রীকৃষ্ণের প্রসঙ্গ টেনে রাষ্ট্রপতি তাঁকে পরোপকারী, দক্ষ রাজনীতিক ও সমাজ সংস্কারক হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সত্য, ন্যায়, মানবতা ও কল্যাণের আদর্শ নিয়েই শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাবের তাৎপর্য নিহিত।
অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে শ্রীকৃষ্ণের অবস্থানের কথাও তুলে ধরেন তিনি। রাষ্ট্রপতির মতে, শ্রীকৃষ্ণের ভাবনা ও দর্শন হিন্দু সমাজ ও সংস্কৃতির গভীরে প্রোথিত এবং তা যুগের পর যুগ মানুষকে মানবিকতা, পরোপকার ও সহমর্মিতার শিক্ষা দিয়ে এসেছে।
বর্তমান বিশ্বের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি। তাঁর বক্তব্য, বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় ধর্মীয় কারণকে কেন্দ্র করে সংঘাত, হানাহানি ও বিভেদ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে ধৈর্য ও সহনশীলতার পথেই এগোনোর প্রয়োজন।
সেই সংকটের মোকাবিলায় শ্রীকৃষ্ণের দর্শন থেকে শিক্ষা নিয়ে অসাম্প্রদায়িক ও ঐক্যবদ্ধ সমাজ গড়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে সমাজের অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়াতে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে এগিয়ে আসার আবেদন জানিয়েছেন।
বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়কে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন হামলার অভিযোগের আবহে রাষ্ট্রপতির এই সম্প্রীতির বার্তা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। জন্মাষ্টমীর মতো গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে তাঁর বক্তব্যে শান্তি, সহনশীলতা ও মানবিকতার ওপরই বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।



