টানা নিম্নচাপ আর অতিবৃষ্টিতে যখন নাজেহাল রাজ্যবাসী, তখনই পুজোর আগে স্বস্তির বার্তা আবহাওয়া দফতরের। মহালয়ার আগেই পশ্চিমবঙ্গ থেকে বর্ষা বিদায়ের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। ফলে দুর্গাপুজোর দিনগুলিতে আবহাওয়া কেমন থাকবে, তা নিয়ে নতুন করে আশার আলো দেখা যাচ্ছে। তবে বঙ্গোপসাগরে স্থানীয় নিম্নচাপ বা ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হলে পুজোর মধ্যে আচমকা বৃষ্টির সম্ভাবনাও একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
চলতি বছর ১০ অক্টোবর মহালয়া, আর ১৭ অক্টোবর ষষ্ঠী। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ের আগেই দক্ষিণবঙ্গ থেকে বর্ষা বিদায়ের অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। বর্ষা সরে গেলে পুজোর সময়ে আকাশ মূলত পরিষ্কার থাকার সম্ভাবনাই বেশি।
শরতের পরিবেশে দিনের আকাশে দেখা যেতে পারে নীলের সঙ্গে সাদা মেঘের খেলা। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩১ থেকে ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ঘোরাফেরা করতে পারে। অর্থাৎ পুজোর দিনে অতিরিক্ত গরমের বদলে মোটের উপর মনোরম আবহাওয়ারই সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে দিনের বেলায় আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি কিছুটা থাকতে পারে। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা ও রাতের দিকে সেই অস্বস্তি কমার সম্ভাবনা রয়েছে। শেষরাত ও ভোরের দিকে শরতের হালকা শিরশিরে অনুভূতিও মিলতে পারে।
তবে বর্ষা বিদায় নিলেই যে পুজোয় বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা থাকবে না, এমনটা এখনই বলা যাচ্ছে না। অক্টোবর মাসে বঙ্গোপসাগরে স্থানীয়ভাবে ঘূর্ণাবর্ত বা নিম্নচাপ তৈরির প্রবণতা থাকে। সেই ধরনের কোনও সিস্টেম তৈরি হলে পুজোর দিনগুলিতে বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে এক-দু’পশলা হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে।
এদিকে বর্তমানে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশ সংলগ্ন এলাকা থেকে সরে নিম্নচাপটি উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের দিকে অবস্থান করছে। এর পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ডের উপর দিয়ে একটি নিম্নচাপ অক্ষরেখাও বিস্তৃত রয়েছে। তার প্রভাবেই আপাতত রাজ্যের বিভিন্ন অংশে বৃষ্টি চলছে।
শুক্রবার দক্ষিণবঙ্গের চার জেলায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম ও বাঁকুড়ায় জারি হয়েছে হলুদ সতর্কতা। বৃষ্টির সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।
তবে সপ্তাহান্তেই পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শনিবার থেকে দক্ষিণবঙ্গে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা আর থাকছে না। রবিবারের পর বৃষ্টির দাপট আরও কমতে পারে। এর সঙ্গে ধীরে ধীরে তাপমাত্রাও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
উত্তরবঙ্গেও শুক্রবার বৃষ্টির দাপট রয়েছে। জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা জারি হয়েছে। শনিবার ও রবিবার কালিম্পং, জলপাইগুড়ি এবং কোচবিহারে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সোমবার থেকে উত্তরবঙ্গেও বৃষ্টির পরিমাণ কমার পূর্বাভাস রয়েছে।
কলকাতাতেও শুক্রবার ও শনিবার বজ্রবিদ্যুৎসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে রবিবার থেকে মঙ্গলবার বৃষ্টির প্রবণতা কমবে। তখন ফের আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি কিছুটা বাড়তে পারে। শুক্রবার শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রয়েছে ২৪.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
সব মিলিয়ে, পুজোর আগে বর্তমান বৃষ্টির দুর্যোগ থেকে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসার ইঙ্গিতই দিচ্ছে আবহাওয়া। বর্ষা বিদায়ের পর শরতের স্বাভাবিক পরিবেশ ফেরার সম্ভাবনা থাকলেও পুজোর দিনগুলিতে বঙ্গোপসাগরের পরিস্থিতির উপর নজর থাকবে। তাই এখনই ‘বৃষ্টিমুক্ত পুজো’ নিয়ে নিশ্চিত হওয়ার বদলে আগামী দিনের পূর্বাভাসের দিকেই নজর রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।



