জাতীয় দলে ফেরার দরজা এখনও খোলা, দলীপ জয়ের পর শামির বার্তা—‘বাকিটা উপরওয়ালার হাতে’

দলীপ ট্রফির ফাইনালে নিজের ১০০তম প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেললেন মহম্মদ শামি। পূর্বাঞ্চলের ট্রফি জয়ের পর জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তনের আশা ছাড়েননি ভারতীয় পেসার।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

জাতীয় দলের বাইরে থাকলেও লড়াই থামাচ্ছেন না মহম্মদ শামি (Mohammed Shami)। দলীপ ট্রফি জয়ের পর ফের একবার নিজের প্রত্যাবর্তনের ইচ্ছের কথা স্পষ্ট করলেন ভারতীয় পেসার। ৩৬ পেরিয়েও পারফরম্যান্সের তাগিদে কোনও ঘাটতি দেখছেন না তিনি। পূর্বাঞ্চলের হয়ে দলীপ ট্রফি জয়ের দিনই ছিল তাঁর ১০০তম প্রথম শ্রেণির ম্যাচ। আর সেই মাইলফলকেই এল ১৪ বছর পর পূর্বাঞ্চলের ট্রফি জয়।

দলীপ ট্রফির ফাইনাল শামির কাছে তাই একাধিক কারণে স্মরণীয় হয়ে থাকল। দীর্ঘদিন পর পূর্বাঞ্চলের হাতে এল ট্রফি, আর একই ম্যাচে নিজের শততম প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেললেন বাংলার এই তারকা পেসার। জাতীয় দলের জার্সিতে তাঁর শেষ ম্যাচ ছিল গত বছরের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে। তারপর থেকে ঘরোয়া ক্রিকেটেই নিজেকে প্রমাণ করে চলেছেন তিনি।

ট্রফি জয়ের পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে শামি জানান, শততম ম্যাচে দলীপ ট্রফি জয় তাঁর কাছে নিঃসন্দেহে বিশেষ মুহূর্ত। তাঁর কথায়, দলের প্রত্যেক ক্রিকেটারই পুরো টুর্নামেন্টে নিজেদের সেরাটা দিয়েছেন। ফাইনালের কঠিন পরিবেশেও সকলে শেষ পর্যন্ত লড়াই করে গিয়েছেন।

চেন্নাইয়ের প্রবল গরমের কথাও আলাদা করে উল্লেখ করেছেন শামি। তাঁর মতে, এমন প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে ম্যাচ জিতে ট্রফি তুলে নেওয়ার গুরুত্ব আলাদা। তবে নিজের শততম ম্যাচ নিয়ে বেশি আবেগপ্রবণ না হয়ে শামির জোর ছিল মানসিকতার উপর। প্রথম শ্রেণির প্রথম ম্যাচ হোক কিংবা ১০০তম—চেষ্টা ও লড়াইয়ের মানসিকতা একই থাকা উচিত বলেই মনে করেন তিনি।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দীর্ঘদিন খেলার পর ঘরোয়া ক্রিকেটে নেমে মানিয়ে নেওয়ার প্রশ্নেও শামির উত্তর যথেষ্ট স্পষ্ট। তাঁর বক্তব্য, একবার জার্সি পরে মাঠে নামলে ক্রিকেটের স্তর নিয়ে আলাদা করে ভাবার সুযোগ থাকে না। দলের হয়ে খেলার দায়িত্ব এবং পারফর্ম করার তাগিদই তখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

দলীপের প্রথম পর্বের ম্যাচ বেঙ্গালুরুতে খেলেছিল পূর্বাঞ্চল। ফাইনাল হয়েছে চেন্নাইয়ে। দুই শহরের আবহাওয়ার পার্থক্যও ম্যাচে বড় ভূমিকা নিয়েছে। বেঙ্গালুরুর তুলনায় চেন্নাইয়ের গরম এবং মন্থর পরিবেশে বোলিং করা ছিল অনেক বেশি কঠিন।

চেন্নাইয়ের উইকেটে সুইং ও বাউন্স দুটোই তুলনামূলক কম ছিল বলে জানিয়েছেন শামি। তাই পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে লাইন ও লেংথের উপর বেশি জোর দিতে হয়েছে তাঁকে। পাশাপাশি পুরনো বলে রিভার্স সুইংকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনাও ছিল তাঁর। তাঁর মতে, অনুকূল পরিস্থিতিতে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সহজ, কিন্তু প্রতিকূল পরিবেশেই একজন ক্রিকেটারের আসল দক্ষতার পরীক্ষা হয়।

ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত পারফর্ম করার পরেও জাতীয় দলের দরজা এখনও পুরোপুরি খোলেনি শামির জন্য। তবে প্রত্যাবর্তনের আশা ছাড়ছেন না তিনি। তাঁর বক্তব্যের সারকথা একটাই—নিজের হাতে রয়েছে পরিশ্রম ও প্রস্তুতি, সুযোগ পাওয়া বা না পাওয়া তাঁর নিয়ন্ত্রণে নয়।

সেই কারণেই জাতীয় দলে ফেরার প্রশ্নে শামির বার্তা অত্যন্ত সরল, “আমার কাজ শুধু কঠোর পরিশ্রম করে যাওয়া। বাকিটা উপরওয়ালার হাতে।” অর্থাৎ বয়স, দীর্ঘ অনুপস্থিতি কিংবা প্রতিযোগিতা—কোনও কিছুই তাঁকে এখনই লড়াই থেকে সরিয়ে দিতে পারছে না। ভারতীয় জার্সিতে ফেরার আশায় নিজের কাজটা করে যেতে চান এই অভিজ্ঞ পেসার।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন