ইতিহাসের দরজায় দাঁড়িয়ে ছিল বাংলা, আর তার চাবিকাঠি ছিল সুদীপ কুমার ঘরামির ব্যাটে। ট্রিপল সেঞ্চুরি থেকে মাত্র এক রান দূরে এসে থেমে গেল সেই স্বপ্ন—২৯৯ রানে বোল্ড হয়ে একদিকে যেমন তৈরি হল বিরল রেকর্ড, তেমনই অন্যদিকে বিশাল লিডে সেমিফাইনালের গন্ধ পাচ্ছে বাংলা শিবির।
রঞ্জি ট্রফির তৃতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে অন্ধ্রপ্রদেশের বিরুদ্ধে দুরন্ত ইনিংস খেলছিলেন বাংলার টপ অর্ডার ব্যাটার সুদীপ। দীর্ঘ সময় ধরে নিখুঁত নিয়ন্ত্রণে ব্যাট করে দলকে শক্ত ভিতের উপর দাঁড় করান তিনি। কিন্তু শেখ রশিদের একটি বল হঠাৎ নিচু হয়ে এসে ভেঙে দেয় তাঁর স্টাম্প। আর তাতেই ২৯৯ রানে থেমে যায় স্বপ্নের ইনিংস।
এই আউটের মাধ্যমে রঞ্জি ট্রফির ইতিহাসে প্রথম ব্যাটার হিসেবে ২৯৯ রানে আউট হওয়ার বিরল রেকর্ড গড়লেন সুদীপ। এর আগে ১৯৮৮-৮৯ মরশুমে মহারাষ্ট্রের শান্তনু সুগভেকর ২৯৯ রানে অপরাজিত থাকলেও এই স্কোরে আউট হওয়ার ঘটনা ঘটেনি।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের ইতিহাসেও এই ঘটনা বিরল। এর আগে মাত্র দু’জন ব্যাটার ২৯৯ রানে আউট হয়েছেন—নিউজ়িল্যান্ডের কিংবদন্তি মার্টিন ক্রো এবং ইংল্যান্ডের মাইক পাওয়েল। সেই বিরল তালিকায় এবার যুক্ত হল সুদীপের নাম।
ম্যাচের দ্বিতীয় দিন থেকেই দুর্দান্ত ছন্দে ছিলেন তিনি। ৯৬ বলে হাফসেঞ্চুরি, ১৫৭ বলে শতরান এবং ৪১৫ বলে দ্বিশতরান পূর্ণ করেন। শেষ পর্যন্ত ৫৯৬ বলের ম্যারাথন ইনিংসে ৩১টি চার ও ৬টি ছক্কার সাহায্যে করেন ২৯৯ রান—রঞ্জি কেরিয়ারের প্রথম দ্বিশতরান।
এই ইনিংসের সুবাদে কার্যত একাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন নৈহাটির এই ব্যাটার। কল্যাণীর বেঙ্গল ক্রিকেট অ্যাকাডেমি মাঠে বাংলা প্রথম ইনিংসে তোলে ৬২৯ রানের বিশাল স্কোর এবং নেয় ৩৩৪ রানের লিড।
বাংলার হয়ে মহম্মদ সামি খেলেন ৩৩ বলে ৫৩ রানের ঝোড়ো ইনিংস। হাবিব গান্ধী করেন ৯৫ রান। জবাবে ব্যাট করতে নেমে চতুর্থ দিনেই অন্ধ্রপ্রদেশের ৬৪ রানে ৩ উইকেট পড়ে যায়। তারা এখনও ২৭০ রানে পিছিয়ে।
বাংলার সামনে এখন জয়ের সুবর্ণ সুযোগ। বাকি সাত উইকেট দ্রুত তুলে নিতে পারলে সরাসরি জয় নিশ্চিত হবে। আর ম্যাচ ড্র হলেও প্রথম ইনিংসের লিডের জোরে সেমিফাইনালের টিকিট কার্যত নিশ্চিত।
ট্রিপল সেঞ্চুরির আক্ষেপ থাকলেও, ২৯৯ রানের এই ইনিংস রঞ্জি ইতিহাসে থেকে যাবে এক অন্যরকম গল্প হয়ে—যেখানে আছে অবিশ্বাস্য ধৈর্য, লড়াই আর মাত্র এক রানের হাহাকার।



