রঞ্জি ট্রফির ফাইনালের স্বপ্ন আবারও অধরাই রয়ে গেল বাংলার। মহম্মদ সামির দুরন্ত বোলিংয়ে ম্যাচে দাপট দেখিয়েও শেষ পর্যন্ত ব্যাটিং ব্যর্থতার মাশুল গুনতে হলো লক্ষ্মীরতন শুক্লার দলকে। জম্মু ও কাশ্মীরের কাছে হেরে সেমিফাইনাল থেকেই বিদায় নিল বাংলা, আর ইতিহাস গড়ে প্রথমবার রঞ্জি ফাইনালে উঠল প্রতিপক্ষ।
গত মরশুমে গ্রুপ পর্বেই থেমে যেতে হয়েছিল বাংলাকে। এ বার শুরু থেকেই দলকে ঘিরে ছিল বাড়তি আশা। বোলিংয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন Mohammed Shami, ব্যাট হাতে ভরসা জোগাচ্ছিলেন সুদীপ কুমার ঘরামিরা। সেমিফাইনালেও বল হাতে দাপট দেখান সামি, তুলে নেন মোট আটটি উইকেট। কিন্তু সেই লড়াই ব্যাটিং ধসে শেষ পর্যন্ত বিফলে যায়।
বাংলার ব্যাটিং ব্যর্থতা
প্রথম ইনিংসে সুদীপ কুমার ঘরামির ১৪৬ রানের দুরন্ত ইনিংসে ভর করে ৩২৮ রান তোলে বাংলা। জবাবে ৩০২ রানে শেষ হয় জম্মু ও কাশ্মীরের প্রথম ইনিংস। একাই আট উইকেট নিয়ে বাংলাকে ম্যাচে এগিয়ে দেন সামি, ফলে ২৬ রানের লিড পায় বাংলা।
কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং ভেঙে পড়ে। পাঁচ ব্যাটার ফেরেন এক অঙ্কের স্কোরে। অনুষ্টুপ মজুমদার (১২), সুরজ সিন্ধু জয়সওয়াল (১৪), শাকির হাবিব গান্ধী (১০) ও সামি (১১) সামান্য লড়াই করেন। সর্বোচ্চ ২৪ রান করেন শাহবাজ আহমেদ। শেষ পর্যন্ত মাত্র ৯৯ রানে অলআউট হয়ে যায় বাংলা, যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
ইতিহাস গড়ল জম্মু ও কাশ্মীর
জয়ের জন্য ১২৬ রানের লক্ষ্য পায় জম্মু ও কাশ্মীর। তৃতীয় দিনের শেষে দুই উইকেট হারালেও চতুর্থ দিনে চাপ সামলে নেয় তারা। প্রথম দিকে শুভম সিং পুন্ডিরকে ফেরান সামি, আর অধিনায়ক পরশ ডোগরাও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি।
তবে বংশজ শর্মা ও আব্দুল সামাদের জুটি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। ৮৩ বলে ৪৩ রানে অপরাজিত থাকেন বংশজ, আর ২৭ বলে ৩০ রানে নট আউট থাকেন সামাদ। এই জুটির হাত ধরেই ছয় উইকেটে জয় তুলে নেয় জম্মু ও কাশ্মীর এবং প্রথমবারের মতো রঞ্জি ট্রফির ফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়ে।
ঘরের মাঠে এমন হারে হতাশায় ডুবল বাংলার শিবির, আর সামির দুরন্ত বোলিং থেকেও মিলল না কাঙ্ক্ষিত ফল।



