ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার বাংলার ক্রিকেটার অভিষেক পোড়েলের দ্রুত শুনানির আর্জি খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। গ্রেফতারির বিরুদ্ধে দ্রুত শুনানির আবেদন নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ক্রিকেটারের আইনজীবী ময়ূখ মুখোপাধ্যায়। কিন্তু সেই আবেদন গ্রহণ করেননি বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। আদালতের স্পষ্ট বার্তা, যেহেতু অভিযুক্ত ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হয়েছেন, তাই জামিনের আবেদন করতে হবে এবং মামলার শুনানি হবে নির্ধারিত তালিকা মেনেই।
মামলার শুনানিতে ক্রিকেটারের আইনজীবীর দাবি, সংশ্লিষ্ট মামলায় ইতিমধ্যেই চার্জশিট পেশ হয়ে গিয়েছে। গ্রেফতারের আশঙ্কা থেকেই আগে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তাঁর মক্কেল। কিন্তু সেই মামলা আদালতে বিচারাধীন থাকা অবস্থাতেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানান আইনজীবী।
আইনজীবীর বক্তব্য, মামলা বিচারাধীন থাকার কারণে বর্তমানে জামিনের আবেদন করা যাচ্ছে না। সেই কারণেই দ্রুত মামলাটি শুনানির জন্য আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। তবে আদালত সেই আর্জিতে সাড়া দেয়নি।
বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়ে দেন, যেহেতু অভিযুক্ত ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হয়েছেন, তাই জামিনের জন্য আবেদন করতে হবে। তাঁর মন্তব্য, “যেহেতু ইতিমধ্যে গ্রেফতার হয়েছেন। আপনি জামিনের জন্য আবেদন করুন। তালিকা মেনেই মামলার শুনানি হবে।”
অর্থাৎ, দ্রুত শুনানির জন্য বিশেষ কোনও ব্যবস্থা না করে নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ীই মামলাটি শোনা হবে। আদালতের এই অবস্থানের ফলে আপাতত স্বস্তি পেলেন না ধর্ষণ মামলায় গ্রেফতার ওই ক্রিকেটার।
আইপিএলে দিল্লি ক্যাপিটালস (Delhi Capitals)-এর হয়ে খেলা এই ক্রিকেটার বাংলারই ছেলে। উইকেটকিপার-ব্যাটার হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই ঘরোয়া ক্রিকেটের পাশাপাশি আইপিএলে পরিচিত মুখ তিনি। তাঁর বিরুদ্ধেই এবার বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারী তরুণী কর্নাটকে ডাক্তারি পড়াশোনা করছেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁর দাবি, ওই ক্রিকেটারের সঙ্গে প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে সম্পর্ক ছিল। সম্পর্ক চলাকালীন প্রায় দেড় বছর আগে দু’জনের মধ্যে একটি সমস্যা তৈরি হয়। সেই ঘটনা থানাতেও পৌঁছেছিল বলে অভিযোগকারিণীর বক্তব্য, যদিও তখন কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি।
পরবর্তীতে তরুণী মগড়া থানায় গিয়ে ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয় তাঁর বিরুদ্ধে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করে পুলিশ এবং পরে ক্রিকেটারকে গ্রেফতার করা হয়।
এখন গ্রেফতারির পর জামিন পাওয়ার জন্য আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পথই খোলা রয়েছে অভিযুক্ত ক্রিকেটারের সামনে। তবে দ্রুত শুনানির আর্জি কলকাতা হাইকোর্ট খারিজ করে দেওয়ায় নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ীই পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এগোবে।



