‘পৌঁছে দেব’ বিশ্বাস করে বাসে উঠে গণধর্ষিতা স্কুলছাত্রী! ঠিক কী কী ঘটেছিল গ্রেটার নয়ডায়?

গ্রেটার নয়ডার পরী চৌকে রাতের অন্ধকারে পথ হারানো স্কুলছাত্রীকে নয়ডা পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে বাসে তোলা হয়; অভিযোগ, চলন্ত বাসে নির্যাতনের পর কাশ্মীরি গেটে নামিয়ে দেওয়া হয় তাকে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরো: উত্তরপ্রদেশের মৈনপুরী থেকে আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার পথে ভুল করে গ্রেটার নয়ডার পরী চৌকে নেমে পড়েছিল একাদশ শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী। রাত, প্রবল বৃষ্টি আর অন্ধকার রাস্তায় একা দাঁড়িয়ে থাকা কিশোরীকে দেখে একটি স্লিপার বাস থামে। চালক ও কন্ডাক্টর তাকে নয়ডার সেক্টর ৬৩-এ পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন। সেই বিশ্বাসেই বাসে ওঠার পরই ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে পড়ে সে। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় অভিযুক্ত বাসচালক ও কন্ডাক্টরকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ৪ অগস্ট রাতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে মৈনপুরী থেকে নয়ডার সেক্টর ৬৩-এ আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল ওই ছাত্রীর। কিন্তু ভুল করে সে গ্রেটার নয়ডার পরী চৌকে নেমে যায়। তখন রাত হয়ে গিয়েছে, সঙ্গে প্রবল বৃষ্টি। অপরিচিত জায়গায় একা দাঁড়িয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে সে।

এই সময় একটি স্লিপার বাস দেখতে পেয়ে সেটিকে দাঁড় করানোর জন্য সংকেত দেয় কিশোরী। বাসটি তখন কোনও যাত্রী পরিবহণে ছিল না। গ্রেটার নয়ডার সুরজপুরে মেরামতির পর সেটি দিল্লির দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বলে পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে। চালক ও কন্ডাক্টর তাকে জানান, তাঁরা নয়ডার দিকেই যাচ্ছেন এবং তাকে পৌঁছে দিতে পারবেন। সেই আশ্বাসেই বাসে ওঠে কিশোরী।

অভিযোগ, বাস চলতে শুরু করার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, চালক ও কন্ডাক্টর দু’জনের বিরুদ্ধেই কিশোরীর উপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার সময় সে প্রতিরোধের চেষ্টা করলে তাকে ভয় দেখানোর অভিযোগও রয়েছে। বাসের জানালায় মোটা পর্দা টানা থাকায় বাইরে থেকে ভিতরের পরিস্থিতি বোঝার সুযোগও ছিল না বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

পরী চৌক থেকে বাসটি প্রথমে নয়ডার দিকে যায়। পরে সেটি দিল্লির দিকে ঘুরে যায় এবং প্রায় ৪৭ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে পুরনো দিল্লির কাশ্মীরি গেটের কাছে রিং রোডে পৌঁছয়। সেখানেই কিশোরীকে নামিয়ে দিয়ে অভিযুক্তেরা বাস নিয়ে চলে যায় বলে পুলিশের অভিযোগ। এরপর কাশ্মীরি গেট থানায় গিয়ে পুরো ঘটনা জানায় সে।

অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত তদন্ত শুরু করে দিল্লি পুলিশ। বাসটি কোন রাস্তা ধরে গিয়েছিল, সেই রুটের একাধিক সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়। সেই সূত্র ধরেই উত্তর দিল্লির তিমারপুরে বাসটির সন্ধান মেলে। পুলিশ সেখানে পৌঁছে বাসের ভিতর থেকেই চালক ও কন্ডাক্টরকে গ্রেফতার করে। বাসটি বাজেয়াপ্ত করে ফরেন্সিক পরীক্ষাতেও পাঠানো হয়েছে।

ঘটনাটি সামনে আসার পর শুধু অপরাধ নয়, দিল্লি-এনসিআর এলাকায় যাত্রীবাহী বাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে বাসের ভিতরে দৃশ্যমানতা, সিসিটিভি এবং চলন্ত বেসরকারি বাসের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ২০১২ সালের দিল্লি গণধর্ষণকাণ্ডের পর যে নিরাপত্তা বিধি জোরদার করা হয়েছিল, তার বাস্তব প্রয়োগ নিয়েও তদন্তের পরিসর বাড়ছে।

একটি সাহায্যের আশ্বাসকে বিশ্বাস করে বাসে ওঠা এক স্কুলছাত্রীর সঙ্গে যে ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে, তা ফের মনে করিয়ে দিল গণপরিবহণে নিরাপত্তা শুধু নিয়মে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না—তার কার্যকর নজরদারিও জরুরি। দ্রুত গ্রেফতার হলেও তদন্তে এখন মূল প্রশ্ন, কীভাবে এতটা পথ পেরিয়েও বাসটি নজরদারির বাইরে রইল।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন