নজরবন্দি ব্যুরো: ৪ অগস্টের ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই নাবালিকাকে চলন্ত বাসে গণধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে শুরু হয়েছে দিল্লি পুলিশ ও উত্তরপ্রদেশ পুলিশের চাপানউতর। নির্যাতিতা গ্রেটার নয়ডার পরি চক থেকে বাসে উঠেছিলেন, পরে কাশ্মীরি গেটের কাছে তাঁকে নামিয়ে দিয়ে পালানোর অভিযোগ ওঠে চালক ও কন্ডাক্টরের বিরুদ্ধে। দিল্লি পুলিশ দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করলেও উত্তরপ্রদেশ পুলিশের দাবি, ঘটনার সূত্র তাদের এলাকাতেই। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন—অপরাধস্থল কোন রাজ্যের সীমানায়?
ঘটনাটি ঘটে ৪ অগস্ট। তবে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে প্রায় চার সপ্তাহ পরে, ৩১ অগস্ট সকালে। অভিযোগ অনুযায়ী, গ্রেটার নয়ডার পরি চক থেকে একটি স্লিপার বাসে ওঠেন ওই নাবালিকা। চলন্ত বাসেই তাঁর উপর যৌন নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ।
পরি চক থেকে প্রায় ৪৭ কিলোমিটার দূরে পুরনো দিল্লির কাশ্মীরি গেট বাস টার্মিনালের কাছে রিং রোডে নাবালিকাকে ফেলে রেখে অভিযুক্তেরা বাস নিয়ে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ। এরপর কাশ্মীরি গেট থানায় গিয়ে অভিযোগ জানান তিনি। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করে দিল্লি পুলিশ।
তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে বাসের চালক ও কন্ডাক্টরকে চিহ্নিত করা হয় বলে দিল্লি পুলিশের দাবি। এরপর উত্তর দিল্লির তিমারপুর এলাকা থেকে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়। দিল্লি পুলিশের দাবি, অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত তদন্ত এগিয়ে নিয়ে ঘটনার প্রায় চার ঘণ্টার মধ্যেই দুই অভিযুক্তকে পাকড়াও করা হয়েছিল।
কিন্তু এখানেই শুরু হয়েছে দুই রাজ্যের পুলিশের মধ্যে টানাপড়েন। দিল্লি পুলিশ ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আনার পর উত্তরপ্রদেশের গৌতমবুদ্ধ নগর কমিশনারেট দাবি করে, বিষয়টি সম্পর্কে তাদের আগে কিছুই জানানো হয়নি। তাদের বক্তব্য, ঘটনাটি যে এলাকায় ঘটেছে বলে তদন্তে উঠে আসছে, সেটি তাদের অধীনেই পড়ে।
গৌতমবুদ্ধ নগর কমিশনারেটের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার রবিশঙ্কর নিম (Ravishankar Nim) দাবি করেছেন, ৩১ অগস্টের আগে দিল্লি পুলিশ নয়ডা পুলিশকে এই ঘটনা সম্পর্কে কোনও তথ্য দেয়নি। এমনকি নির্যাতিতার তরফ থেকেও গৌতমবুদ্ধ নগর পুলিশকে কোনও অভিযোগ জানানো হয়নি বলে দাবি উত্তরপ্রদেশ পুলিশের।
নয়ডা পুলিশের বক্তব্য, তদন্তে পাওয়া নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এবং প্রকাশ্যে আসা ঘটনার বর্ণনার মধ্যে কিছু অসামঞ্জস্য রয়েছে। ফলে ঘটনাটি ঠিক কোথায় ঘটেছে এবং কোন পুলিশ বাহিনীর এক্তিয়ারে তদন্ত হওয়া উচিত, তা নিয়েই তৈরি হয়েছে প্রশ্ন।
দিল্লি পুলিশের অবশ্য বক্তব্য, এই ধরনের অভিযোগে ঘটনাস্থল নিয়ে প্রাথমিক জটিলতা থাকলেও অভিযোগ গ্রহণ করে তদন্ত করার ক্ষেত্রে আইনি বাধা নেই। দিল্লি পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (নর্দার্ন রেঞ্জ) মধুর বর্মা (Madhur Verma) জানিয়েছেন, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (Bharatiya Nyaya Sanhita) নতুন বিধান অনুযায়ী, মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ যে কোনও থানায় জানানো হলে তা গ্রহণ করে তদন্ত করা যেতে পারে।
অর্থাৎ, অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্ত শুরু করার সিদ্ধান্তকে নিজেদের আইনি ক্ষমতার মধ্যেই দেখছে দিল্লি পুলিশ। অন্যদিকে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের প্রশ্ন, যদি ঘটনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ তাদের এলাকায় ঘটে থাকে, তাহলে স্থানীয় পুলিশকে আগে কেন জানানো হয়নি।
ঘটনাটি সামনে আসার পর দিল্লির মহিলা কমিশনও স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে পদক্ষেপ করেছে। অভিযোগের দ্রুত তদন্ত শেষ করে সাত দিনের মধ্যে পুলিশকে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এখন তদন্তের পাশাপাশি নজর রয়েছে দুই রাজ্যের পুলিশের বক্তব্যের দিকেও। বিশেষ করে চলন্ত বাসের ঠিক কোন অংশে এবং কোন এলাকার মধ্যে অভিযোগের ঘটনাটি ঘটেছিল, সেই প্রশ্নের উত্তরই ঠিক করবে তদন্তের প্রশাসনিক এক্তিয়ার নিয়ে তৈরি হওয়া এই চাপানউতরের পরবর্তী গতিপথ।



