এল ক্লাসিকোর ময়দানে লিওনেল মেসিকে (Lionel Messi) থামাতে একসময় একের পর এক কৌশল সাজাতে হয়েছিল জোসে মোরিনহোকে (Jose Mourinho)। বার্সেলোনার মহাতারকার সঙ্গে রিয়াল মাদ্রিদের প্রাক্তন কোচের সেই দ্বৈরথ ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত অধ্যায়। কিন্তু আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে মেসির অবসরের ঘোষণার পর পুরনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভুলে আবেগঘন বার্তা দিলেন মোরিনহো। জানালেন, মেসির অনুপস্থিতিতে আগামী কোপা আমেরিকা এবং বিশ্বকাপ আর আগের মতো থাকবে না।
আর্জেন্তিনার জার্সিতে ২০৭টি ম্যাচ খেলেছেন মেসি। তাঁর নামের পাশে রয়েছে ১২৫টি আন্তর্জাতিক গোল। বিশ্বকাপ এবং একাধিক কোপা আমেরিকা জয়ের পাশাপাশি দেশের ফুটবলে দীর্ঘ সাফল্যের অধ্যায় তৈরি করেছেন তিনি। আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর পর সেই অবদানকেই সম্মান জানিয়েছেন মোরিনহো।
সোশ্যাল মিডিয়ায় মেসিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে মোরিনহো লেখেন, ‘একটি অসাধারণ এবং অবিস্মরণীয় আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের জন্য অভিনন্দন। আগামী কোপা আমেরিকা এবং আগামী বিশ্বকাপ আর আগের মতো থাকবে না।’ দীর্ঘদিনের প্রতিপক্ষের উদ্দেশে মোরিনহোর এই বার্তায় স্পষ্ট, মাঠের লড়াইয়ের বাইরে মেসির প্রতি তাঁর গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে।
রিয়াল মাদ্রিদের দায়িত্বে থাকার সময় মেসিকে সামলানোই ছিল মোরিনহোর অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। বার্সেলোনার বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে সাফল্য পাওয়া কঠিন—খুব দ্রুতই সেই বাস্তবতা বুঝেছিলেন তিনি। ফলে মেসিকে আটকাতে আলাদা কৌশল এবং ভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামতে হত রিয়ালকে।
নিজের তথ্যচিত্রে সেই সময়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে মোরিনহো জানিয়েছিলেন, মেসিকে কী ভাবে থামানো যায়, তা নিয়ে তাঁকে বারবার ভাবতে হত। প্রথম দিকের এল ক্লাসিকোর অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি বুঝেছিলেন, বার্সেলোনার খেলার ধরন নকল করে তাদের হারানো সম্ভব নয়।
তাঁর কথায়, প্রতিপক্ষ হিসেবে দুই দলের লড়াই ছিল একই লিগ, একই ট্রফি এবং একই চ্যাম্পিয়ন্স লিগকে ঘিরে। সেই তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাই অবশ্য তাঁর কাছে ফুটবলকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছিল।
মেসি ও মোরিনহোর সেই পুরনো দ্বৈরথে উত্তেজনা যেমন ছিল, তেমনই ছিল কৌশল ও ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই। মেসির অবসরের পরে মোরিনহোর বার্তা তাই শুধু এক প্রাক্তন প্রতিদ্বন্দ্বীর বিদায় নয়, ফুটবলের এক যুগের অবসরের স্বীকৃতিও হয়ে উঠেছে।



