গরু পাচার মামলায় দীর্ঘ দু’বছর জেলবন্দি থাকার পর অবশেষে জামিন পেয়েছেন বীরভূমের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা অনুব্রত মণ্ডল। মঙ্গলবার তিনি ফিরলেন বোলপুরে নিজের বাড়িতে। সোমবার তিহাড় জেল থেকে বেরোনোর সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন মেয়ে সুকন্যা মন্ডল। এতদিন পর নিজের বাড়িতে ফিরে কেঁদে ফেললেন অনুব্রত মণ্ডল। সেই ছবি বন্দি হলো ক্যামেরায়। একই সঙ্গে কেষ্ট পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, মমতা ব্যানার্জিকে গোটা দেশ ভালোবাসে। আমি সবসময় দিদির পাশে আছি।
আজ অনুব্রত মণ্ডলকে কাছে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা তৃণমূল কর্মীরা। তাঁকে ঘিরে ধরে চলল স্লোগান, পুষ্পবৃষ্টি। অবশেষে কোনও রকমে ভিড় কাটিয়ে নিজের বাড়িতে প্রবেশ করলেন অনুব্রত। এতদিন জেলে বন্দি থাকায় তাঁর ওজন কমেছে অনেকটাই। সেটা স্পষ্ট ধরা পড়ছে চেহারায়। মানসিকভাবে কিছুটা ভেঙেও হয়তো পড়েছেন। যদিও জানিয়েছেন, ভালো আছি। তবে শরীরে কিছু সমস্যা রয়েছে। মঙ্গলবার সকালে নিজের সেই পরিচিত অফিসে বসতে দেখা গেল বীরভূমের কেষ্টকে। দলীয় কর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে বলতে কেঁদে ফেললেন তিনি। চোখের জল ধরে রাখতে পারলেন না মেয়ে সুকন্যা মণ্ডলও।
গরু পাচার মামলায় ২০২২ সালের ১১ অগস্ট বোলপুরের বাড়ি থেকে অনুব্রত মণ্ডলকে গ্রেফতার করে সিবিআই। গত বৃহস্পতিবার তাঁকে জামিন দিয়েছে আদালত। কিন্তু আইনি কাগজপত্র জমা না পড়ায় তিনি জেল থেকে ছাড়া পাননি। অবশেষে সোমবার তিহাড় জেল থেকে ছাড়া পেয়েছেন অনুব্রত। অনুব্রত মণ্ডল বরাবরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খুবই স্নেহের পাত্র। তৃণমূলের অন্দরে কান পাতলে শোনা যায়, দলের অন্যান্য নেতার তুলনায় কেষ্টকে কিছুটা হলেও অন্য চোখে দেখেন মমতা। তাই তাঁর গ্রেফতারির পর তৃণমূলনেত্রী সাফ বলেছিলেন, “কেষ্টকে বীরের সম্মান দিয়ে ফিরিয়ে আনবো।” আর সেটাই হল।
এদিকে, আবার আজ বীরভূমে প্রশাসনিক বৈঠক করতে যাবার কথা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। অনুব্রত মণ্ডলের সঙ্গে দেখা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তৃণমূল নেত্রীর। এই বিষয়ে অনুব্রত বললেন, “দিদির সঙ্গে অবশ্যই দেখা করার ইচ্ছে রয়েছে। এখন দেখা যাক কি হয়। গোটা রাজ্যের মানুষ মমতা ব্যানার্জির পাশে আছে, আমি চিরকাল থাকব।”



