গত বছরের চেয়েও বড় করে উৎসব পালন করতে হবে, আরজি কর আবহে তৃণমূল বিধায়কের মন্তব্যে শোরগোল

আরজি করে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় উত্তাল গোটা রাজ্য। উৎসবে ফিরছি না, স্পষ্টভাবে বলেন আন্দোলনরত জুনিয়র চিকিৎসকেরা। একই মত নাগরিক সমাজের। দেওয়ালে, রাস্তায় বড় বড় করে লেখা হয় সেই স্লোগান।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

আরজি করে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় উত্তাল গোটা রাজ্য। উৎসবে ফিরছি না, স্পষ্টভাবে বলেন আন্দোলনরত জুনিয়র চিকিৎসকেরা। একই মত নাগরিক সমাজের। দেওয়ালে, রাস্তায় বড় বড় করে লেখা হয় সেই স্লোগান। এবার আরজি কর আবহেই আরও জাঁকজমকপূর্ণভাবে দুর্গাপুজো পালনের ডাক দিলেন অশোকনগরের তৃণমূল বিধায়ক তথা উত্তর ২৪ পরগণার জেলা সভাধিপতি নারায়ণ গোস্বামী।

মধ্যমগ্রামে একটি পুজোর বৈঠকে নারায়ণ বলেন, “অনেকে বলছেন উৎসবে নেই। আমাদের কাছে আরও বড় চ্যালেঞ্জ হল গত বছরের চেয়েও বড় করে উৎসব পালন করা। আমরাও প্রমাণ করতে চাই, আমরা উৎসবে আছি। আরও শৃঙ্খলাপরায়ণভাবে উৎসব পালন করতে হবে। যেখানে খিচুড়ি ভোগ দেওয়া হতো না, সেখানে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। যেখানে বাউল গান হত না, সেখানে একদিন বাউল গান দিতে হবে। পুজো কমিটির কাছে আমার অনুরোধ, আমি সব ধরনের সাহায্য করতে রাজি আছি। গত বছর যে আলো ছিল এবার তার থেকেও বেশি হবে।”

বিগত ৯ অগস্ট আরজি কর হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজের চারতলার সেমিনার হল থেকে চেস্ট মেডিসিন বিভাগের এক তরুণী চিকিৎসকের দেহ উদ্ধার হয়। ময়নাতদন্তের উপর জানা যায়, ওই পিজিটি পড়ুয়াকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে রাস্তায় নামে গোটা নাগরিক সমাজ। আন্দোলন চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় একদিন মন্তব্য করেন, সামনে পুজো আসছে এবার উৎসবে ফেরা উচিত! তৃণমূলনেত্রীর এই মন্তব্যে তীব্র শোরগোল সৃষ্টি হয় রাজ্যজুড়ে। আন্দোলনকারীরা রীতিমতো ক্ষোভ প্রকাশ করেন মমতার বিরুদ্ধে। এবার নারায়ণ গোস্বামীও একইভাবে বাঙালিকে শোক ভুলে আরও জাঁকজমকের সাথে উৎসব পালনের ডাক দিলেন।

প্রাথমিকভাবে উৎসবে না ফেরার ডাক দিলেও আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন পেশার মানুষের কথা ভেবে শেষমেষ দুর্গাপুজো পালনে সায় দিয়েছেন। তবে তাঁদের বক্তব্য, এবারের পুজোয় যেন একটাই স্বর থাকে। সেটা হল, ‘জাস্টিস ফর আরজি কর’। মানুষ যেন উৎসবে মেতে গিয়ে নৃশংস এই অপরাধের কথা না ভুলে যায়। যতদিন না সঠিক বিচার আসছে ততদিন পর্যন্ত কোনও রকম উৎসবে ফেরা হবে না। তবে এই দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে ঢাকি, হকার থেকে শুরু করে বিভিন্ন দরিদ্র মানুষের পেট চলে। সারাবছর তাঁরা তাকিয়ে থাকেন এই একটা সপ্তাহের জন্য। তাই উৎসব অবশ্যই হবে, কিন্তু সেটা নিশ্চয়ই গতবারের চেয়ে বড় করে নয়! তৃণমূল বিধায়কের এই মন্তব্যে তীব্র সমালোচনা জানিয়েছে দুই বিরোধী শিবির বিজেপি এবং সিপিআইএম।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন