কুন্তল ঘোষের যোগাযোগ রয়েছে আরও ওপরে। শনিবার তৃণমূল নেতার গ্রেফতারির পর এমনটাই দাবি করলেন প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের অপসারিত সভাপতি মানিক ভট্টাচার্য ঘনিষ্ঠ তাপস মণ্ডল। একইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, টাকা ফেরতের জন্য কুন্তলকে জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেটা না করে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছিল কুন্তল।
নিয়োগ দুর্নীতিতে দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদের পর তৃণমূলের যুব নেতা কুন্তল ঘোষকে গ্রেফতার করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। তাঁর বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি কালো ডায়েরি। যা নিয়োগ দুর্নীতিতে মোড় ঘোরাচ্ছে বলেই জানা গেছে। সাড়ে ১৯ কোটি টাকা নয়, ৩০ কোটি টাকা তুলেছিলেন কুন্তল ঘোষ। আদালতে এমনটাই দাবি করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
প্রাথমিকে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তাঁর নাম জড়িয়েছে। বিশেষ করে প্রাক্তন সিবিআই কর্তা ও রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী উপেন বিশ্বাসের মুখে উঠে এসেছে রঞ্জন ওরফে বাগদার চন্দন মণ্ডলের। শনিবার নিজাম প্যালেসে হাজিরা দিলেন তিনি। সিবিআই দফতরে প্রবেশের মুখে নাম না করে জানালেন, কাউকে চাকরি দিইনি। আমাকে ফাঁসানো হয়েছে।
কুন্তলের সঙ্গে কোথায় যোগসূত্র পেল তদন্তকারী সংস্থা? ইডি সূত্রে খবর, প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের অপসারিত সভাপতি মানিক ভট্টাচার্যের সম্পর্কে ইডি যে চার্জশিট দিয়েছিল, সেখানে মিস্টার ঘোষ বলে একজনের নাম উল্লেখ ছিল। সেটা কুন্তল বলেই জানা গেছে। মানিকের চার্জশিটে ছিল কুন্তলের নাম থাকতেই তাঁকে তলব করা হয়েছে।
নিয়োগ দুর্নীতি মামলাকে কেন্দ্র করে বিরাট প্রশ্নে মুখে রাজ্যের শাসক দল। সম্প্রতি সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে হুগলী জেলা যুব তৃণমূলের নেতা কুন্তল ঘোষের নাম। গত বুধবারের পর ফের ফের কুন্তলকে সিবিআইয়ের তলব। তা মেনেই সিবিআইয়ের দফতরে হাজিরা দিয়েছেন তিনি। কেন আট দিনের মাথায় ফের কুন্তলকে সিবিআইয়ের তলব ঘিরে একাধিক প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে শুরু করেছে।
আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি অবধি জেল হেফাজতে থাকবেন মানিক ভট্টাচার্য। কিন্তু আত্মসমর্পণ করার পরেও কেন গ্রেফতার হচ্ছে না মানিকের স্ত্রী-পুত্র? এই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কারণ, অর্ডারে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে মানিক পুত্র সৌভিক, স্ত্রী অপরূপা এবং তাপস মণ্ডলের গ্রেফতারির কথা। তারপরেও কেন তাঁরা এখনও জেলের বাইরে রয়েছে?
প্রাথমিক শিক্ষক পদে নিয়োগ দুর্নীতি এর আগে ২৫৫ জনের চাকরি বাতিল করেছিল কলকাতা হাইকোর্ট। এদিন আরও ৩ জনের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দিলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। চাকরি রক্ষার জন্য বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন চাকরি প্রার্থীরা।