রবিবার পান্ডুয়াতে হুগলী সাংগঠনিক জেলার কার্যকর্তা সম্মেলন অনুষ্ঠানে গিয়ে দলীয় কর্মীদের ক্ষোভের মুখে পড়লেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। যদিও এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে হুগলী সাংগঠিক জেলার সভাপতি তুষার মজুমদার জানিয়েছেন, কারুর মধ্যে কোনও ক্ষোভ নেই, যিনি এই অভিযোগ তুলেছেন তিনি দলের হয়ে কাজ করেন না, কোনও পদেও তিনি নেই।
ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটকে সামনে রেখেই একেবারে জেলাস্তরে সংগঠনের খোলনলচে বদলানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে স্বীকার করেছেন রাজ্য বিজেপির এক নেতা। ৪৩টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে অন্ততপক্ষে ১৫টি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি বদল করা হবে।
বিজেপি সূত্রে খবর, এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকে সুকান্ত মজুমদার ইডি-সিবিআই নির্ভরতা নিয়ে চাঞ্চল্যকর বয়ান দেন। তাঁর মতে, অতিরিক্ত এজেন্সি নির্ভরতাই 'কাল' হয়েছে বিজেপির জন্য। তিনি বলেন, "ইডি, সিবিআইয়ের উপর ভরসা করে চলবে না। সব বিষয়ে দিল্লির মুখাপেক্ষী থাকবেন না। আত্মনির্ভর হতে হবে। বুথকে শক্তিশালী করতে হবে। তবেই তৃণমূলের মোকাবিলা করা যাবে।"
শুক্রবার রাজভবনে ২০০ জন আক্রান্তদের নিয়ে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করতে চান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে তাঁদের পুলিশ ঢুকতে বাধা দিয়েছে বলে অভিযোগ। হাই কোর্টের দ্বারস্থও হন বিরোধী দলনেতা। যদিও রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস বেরিয়ে তাদের সঙ্গে দেখা করেন।
দ্বিতীয়বারের জন্য সাংসদ হয়েছেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। আর এবার পেয়েছেন জোড়া মন্ত্রকের দায়িত্ব। শিক্ষা ও উত্তর-পূর্ব উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে সুকান্তকে।
স্বাভাবিকভাবেই এই পরিবেশে একে অপরের মুখোমুখি হলে কিছুটা উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হতে পারে বিজেপি নেতাদের মধ্যে, এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ। যদিও শুভেন্দু অধিকারীর এই বৈঠকে উপস্থিত থাকা নিয়ে কিছুটা সন্দেহ রয়েছে। এর আগেও একাধিক বৈঠক সুকৌশলে এড়িয়েছেন তিনি।
আগামীদিনে বিজেপির 'এক ব্যক্তি এক পদ' নিয়ম মেনে হয়তো রাজ্য সভাপতি পদে ইস্তফা দিতে হতে পারে সুকান্তকে। সেক্ষেত্রে নতুন সভাপতি কে হবেন তা নিয়ে হাওয়ায় নানান নাম ভাসছে। তবে, সুকান্ত মজুমদার বারবারই বলেছেন, বিজেপি সাংগঠন দল, তিনি দলের একজন সৈনিক মাত্র। দল যে দায়িত্ব দেবে তাই করবেন।