রবিবার পান্ডুয়াতে হুগলী সাংগঠনিক জেলার কার্যকর্তা সম্মেলন অনুষ্ঠানে গিয়ে দলীয় কর্মীদের ক্ষোভের মুখে পড়লেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তৃণমূলের দালালরা বিজেপিকে শেষ করে দিচ্ছে বলে সুকান্তর কাছে নালিশ জানান পদ্ম-শিবিরের একাংশ। লোকসভা নির্বাচনে মণ্ডল সভাপতিরা বিজেপির হয়ে কাজ করেননি বলে সম্মেলনের মধ্যেই সরব হন কয়েকজন নেতাকর্মী। সুকান্ত মজুমদার তাঁদের কথা শোনেন এবং তারপরেই সম্মেলন ছেড়ে বেরোন।
বিক্ষোভকারীদের মধ্যে দীপক শর্মা বলেছেন, “হুগলীতে বিজেপির যারা মণ্ডল সভাপতি রয়েছেন তাঁরা দলের হয়ে কাজ করছেন না। সেই কারণেই আমরা এই আসনে হেরেছি। আগামী দিনে যদি এই মানুষগুলোকে না বদলানো হয় তাহলে বিজেপির উন্নতি সম্ভব নয়।” যদিও এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে হুগলী সাংগঠিক জেলার সভাপতি তুষার মজুমদার জানিয়েছেন, কারুর মধ্যে কোনও ক্ষোভ নেই, যিনি এই অভিযোগ তুলেছেন তিনি দলের হয়ে কাজ করেন না, কোনও পদেও তিনি নেই।

এই ঘটনায় এখনও পরযন্ত সুকান্ত মজুমদার নিজেও প্রতিক্রিয়া দেননি। তবে, তৃণমূলের তরফে কটাক্ষ করে বলা হয়েছে, গোটা দেশজুড়ে বিজেপিতে ভাঙন শুরু হয়েছে, গোষ্ঠীকোন্দলেই বিজেপি শেষ হয়ে যাবে। বাংলায় ২০২৬ সালের আগেই বিজেপি নিজেদের পায়ের নীচের জমি হারাবে!
তৃণমূলের দালালরা বিজেপিকে শেষ করে দিচ্ছে, দলীয় কর্মীদের ক্ষোভের মুখে সুকান্ত

প্রসঙ্গত, লোকসভা নির্বাচন এবং তারপর বিধানসভা উপনির্বাচন, সবেতেই ভরাডুবি হয়েছে বিজেপির। উপনির্বাচনে তিনটি জেতা আসন তাঁরা হাতছাড়া করেছে। যদিও সুকান্ত মজুমদার তা নিয়ে হতাশ নন। তাঁর মতে, “উপনির্বাচন সবসময় শাসক দলের পক্ষে যায়। ২০১৯ সালে আমরা লোকসভায় ১৮ আসন পেয়েছিলাম, তারপরেও উপনির্বাচন হয়েছিল। আমরা সব কটা হেরে গিয়েছিলাম। ঠিক সেরকমই এখন উপনির্বাচনে যে ফল হল আগামী ২০২৬ সালের বিধানসভায় এই চার কেন্দ্রেই বিজেপির ফল অন্যরকম হবে। স্বচ্ছতার সঙ্গে তো ভোটই হয়নি। তৃণমূলই সব আসন জিতবে সেটাই স্বাভাবিক।”



