অতিরিক্ত ED-CBI নির্ভরতাই বাংলায় বিজেপিকে ডুবিয়েছে, স্বীকার করে নিলেন সুকান্ত

বিপর্যয়ের কারণ খুঁজতে পদ্ম শিবিরের অন্দরে চলছে ময়নাতদন্ত। সোমবার বিজেপির সল্টলেকের দফতরে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেন হেভিওয়েট নেতারা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

প্রথমে ৩৫, তারপর ৩০, সদ্যসমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে বিপুল সংখ্যক আসন জয়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে প্রচারের ময়দানে নামলেও বিজেপি বিগত নির্বাচনে তাঁদের জেতা সব ক’টি আসন ধরে রাখতেই অসমর্থ হয়েছে। ১৮ থেকে সাংসদ সংখ্যা নেমেছে ১২-তে। আর এই বিপর্যয়ের কারণ খুঁজতে পদ্ম শিবিরের অন্দরে চলছে ময়নাতদন্ত। সোমবার বিজেপির সল্টলেকের দফতরে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেন হেভিওয়েট নেতারা। সেখানেই হারের কারণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

আরও পড়ুন: কোচবিহারে বিজেপি সাংসদের বাড়িতে মমতা, তৃণমূলে যোগ দিচ্ছেন অনন্ত মহারাজ!

দলের এই হতশ্রী পারফরম্যান্সের পরে রাজ্যের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভপ্রকাশ করেন একাধিক নেতা। যাদের মধ্যে রয়েছেন দুই জয়ী প্রার্থী সৌমিত্র খাঁ এবং জগন্নাথ সরকার, সেরকমই হেরে গিয়ে বিস্ফোরক বয়ান দেন দিলীপ ঘোষ এবং লকেট চট্টোপাধ্যায়। সোমবারের এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারাও। যেমন, সুনীল বনশল, অমিত মালব্য প্রমুখ। ছিলেন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অমিতাভ চক্রবর্তী, সতীশ ধন্দ, রাজ্য পদাধিকারীরা, জোন ও জেলা ইনচার্জ, বিভিন্ন মোর্চার সভাপতি।

অতিরিক্ত ED-CBI নির্ভরতাই বাংলায় বিজেপিকে ডুবিয়েছে, স্বীকার করে নিলেন সুকান্ত
অতিরিক্ত ED-CBI নির্ভরতাই বাংলায় বিজেপিকে ডুবিয়েছে, স্বীকার করে নিলেন সুকান্ত

বিজেপি সূত্রে খবর, এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকে সুকান্ত মজুমদার ইডি-সিবিআই নির্ভরতা নিয়ে চাঞ্চল্যকর বয়ান দেন। তাঁর মতে, অতিরিক্ত এজেন্সি নির্ভরতাই ‘কাল’ হয়েছে বিজেপির জন্য। তিনি বলেন, “ইডি, সিবিআইয়ের উপর ভরসা করে চলবে না। সব বিষয়ে দিল্লির মুখাপেক্ষী থাকবেন না। আত্মনির্ভর হতে হবে। বুথকে শক্তিশালী করতে হবে। তবেই তৃণমূলের মোকাবিলা করা যাবে।”

অতিরিক্ত ED-CBI নির্ভরতাই বাংলায় বিজেপিকে ডুবিয়েছে, স্বীকার করে নিলেন সুকান্ত

অতিরিক্ত ED-CBI নির্ভরতাই বাংলায় বিজেপিকে ডুবিয়েছে, স্বীকার করে নিলেন সুকান্ত

বুথ স্তরে বিজেপির সংগঠন যে এখনও দুর্বল তা প্রকাশ্যে স্বীকার করে নিয়েছেন জগন্নাথ সরকারও। তিনি সাফ বলেছেন, রানাঘাটে পার্টির সংগঠনই তাঁর বিরুদ্ধে ছিল। অর্থাৎ, দলের অভ্যন্তরে যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে তা স্পষ্ট। সৌমিত্র খাঁ-ও অভিযোগ করেন, অনেক জেলা স্তরের বিজেপির নেতারা তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলছে। তাছাড়া বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে দলের অন্দরে। এবার আসন্ন চার কেন্দ্রের বিধানসভা উপনির্বাচনে বিজেপি কামব্যাক করতে পারে কিনা সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত