রাজ্যের স্কুলগুলিতে প্রার্থনা সংগীত নিয়ে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত। এতদিন যেখানে বহু স্কুলে ‘বাংলার মাটি, বাংলার জল’ গাওয়া হত, সেখানে এবার জাতীয় সঙ্গীতের পরে বাধ্যতামূলকভাবে ‘বন্দে মাতরম্’ গাওয়ার নির্দেশ জারি হয়েছে বলে দাবি ঘিরে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক ও সামাজিক চর্চা। ভাইরাল হওয়া একটি সরকারি নির্দেশিকার কপি ঘিরে ইতিমধ্যেই সরগরম রাজ্য রাজনীতি।
ভাইরাল হওয়া নির্দেশিকায় দেখা যাচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গ স্কুল শিক্ষা দফতরের তরফে স্কুলগুলিতে ‘বন্দে মাতরম্’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই নির্দেশে উল্লেখ করা হয়েছে, স্কুলের প্রার্থনা পর্বে জাতীয় সঙ্গীতের পর ‘বন্দে মাতরম্’ গাইতে হবে।
সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে ‘বাংলার মাটি, বাংলার জল’ গানটি বাদ পড়ার প্রসঙ্গ। দীর্ঘদিন ধরে বহু সরকারি ও সরকারপোষিত স্কুলে প্রার্থনার সময় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই গান গাওয়ার চল ছিল। নতুন নির্দেশে সেই প্রথা বদলানো হচ্ছে বলেই দাবি উঠেছে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর শিক্ষাক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক ও প্রশাসনিক একাধিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। সেই আবহেই এই নির্দেশিকা ঘিরে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।
তবে এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে বিস্তারিত ব্যাখ্যা সামনে আসেনি। ফলে এই নির্দেশ কার্যকর করার পদ্ধতি, কোন কোন স্কুলে তা প্রযোজ্য হবে এবং আগের নির্দেশ পুরোপুরি বাতিল হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
শিক্ষামহলের একাংশ মনে করছে, স্কুলের প্রার্থনা সংগীত শুধুমাত্র একটি সাংস্কৃতিক বিষয় নয়, বরং তা ছাত্রছাত্রীদের মানসিক ও সামাজিক শিক্ষার সঙ্গেও যুক্ত। তাই এমন কোনও সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে বৃহত্তর আলোচনা প্রয়োজন।
অন্যদিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষয়টি ঘিরে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে। কেউ এই সিদ্ধান্তকে জাতীয়তাবাদের বার্তা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ প্রশ্ন তুলছেন বাংলা সংস্কৃতির ঐতিহ্যকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে কি না।
সব মিলিয়ে, স্কুল প্রার্থনায় ‘বন্দে মাতরম্’ বাধ্যতামূলক করার এই নির্দেশিকা এখন রাজ্যের নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে।



