CBSE তৃতীয় ভাষা বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত ঘিরে দেশজুড়ে বিতর্ক আরও তীব্র হল। নবম শ্রেণিতে চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকেই তিনটি ভাষা পড়ানো বাধ্যতামূলক করার নির্দেশের বিরুদ্ধে এবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন অভিভাবক ও পড়ুয়ারা। আগামী সপ্তাহেই এই মামলার শুনানি হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।
গত সপ্তাহে সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন (CBSE) ঘোষণা করেছিল, ১ জুলাই থেকে নবম শ্রেণির পাঠ্যক্রমে তৃতীয় ভাষা অন্তর্ভুক্ত করা হবে। জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছিল বোর্ড।


এই নির্দেশিকার বিরোধিতা করে শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন একাধিক অভিভাবক। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চে আইনজীবী মুকুল রোহতাগি প্রশ্ন তোলেন, এত কম সময়ের মধ্যে কীভাবে এই নতুন নিয়ম কার্যকর করা সম্ভব।
রোহতাগির যুক্তি, বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় পড়ুয়ারা আগেই প্রবল পাঠ্যচাপের মধ্যে রয়েছে। তার উপর হঠাৎ করে নতুন ভাষা চাপিয়ে দিলে পড়ুয়াদের মানসিক চাপ আরও বাড়তে পারে। তিনি আগামী সোমবার মামলার জরুরি শুনানির আবেদনও জানান।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই মামলাটি শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করা হবে। ফলে সিবিএসই-র এই নতুন ভাষানীতি নিয়ে আইনি লড়াই এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে।


জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ অনুযায়ী, স্কুলশিক্ষায় দু’টি ভারতীয় ভাষা শেখানোর উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশ মেনেই গত ১৫ মে সিবিএসই নতুন সার্কুলার জারি করে।
বোর্ডের নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়, ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকেই নবম শ্রেণির মূল্যায়নে তৃতীয় ভাষা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। যদিও দশম শ্রেণির চূড়ান্ত বোর্ড পরীক্ষায় এই তৃতীয় ভাষার পরীক্ষা নেওয়া হবে না।
সিবিএসই আরও জানিয়েছে, স্কুলগুলি নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী ভাষা বেছে নিতে পারবে। তবে শর্ত একটাই— নির্বাচিত তিনটি ভাষার মধ্যে অন্তত দু’টি ভারতীয় ভাষা থাকতে হবে। শিক্ষামহলের একাংশের মতে, ইংরেজিকে এই কাঠামোয় বিদেশি ভাষা হিসেবে ধরা হতে পারে।
বোর্ড জানিয়েছে, তৃতীয় ভাষার জন্য অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের ব্যবস্থা থাকবে এবং সেই নম্বর সিবিএসই শংসাপত্রেও প্রতিফলিত হবে। তবে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার সময়সীমা এবং পড়ুয়াদের উপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠছে।
সুপ্রিম কোর্টের আসন্ন শুনানির দিকে এখন তাকিয়ে রয়েছেন অভিভাবক, শিক্ষক ও পড়ুয়ারা। কারণ এই মামলার রায় ভবিষ্যতে সিবিএসই-র ভাষানীতি এবং জাতীয় শিক্ষানীতির বাস্তবায়নের দিকনির্দেশ অনেকটাই নির্ধারণ করতে পারে।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



