রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর এবার শিক্ষা ব্যবস্থাতেও বড়সড় বদলের ইঙ্গিত। পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে ফের পাশ-ফেল প্রথা চালু হতে পারে বাংলায়— এমনই জল্পনা ছড়িয়েছে রাজনৈতিক ও শিক্ষামহলে। শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই সম্ভাবনাকেই আরও উস্কে দিয়েছে। কেন্দ্র ইতিমধ্যেই শিক্ষার অধিকার আইনে সংশোধন এনে পাশ-ফেল প্রথা ফেরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এবার বাংলাতেও সেই নীতি কার্যকর হতে পারে বলেই মনে করছেন অনেকে।
গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রক একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে। সেখানে জানানো হয়, পঞ্চম এবং অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়াদের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক করা হবে। দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকা ‘নো ডিটেনশন পলিসি’ বা পাশ-ফেলহীন শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতেই এই সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্র।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনও পড়ুয়া প্রথমবার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হলে তাকে দ্বিতীয়বার পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হবে। তারপরও পাশ করতে না পারলে সেই পড়ুয়াকে একই শ্রেণিতে থেকে পুনরায় পড়াশোনা করতে হবে। যদিও বাংলায় এতদিন এই নীতি কার্যকর হয়নি।
তবে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবার সেই নীতিই চালু হতে পারে বলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থা পুনর্গঠন নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন শঙ্কর ঘোষ এবং স্বপন দাশগুপ্ত।
এই প্রসঙ্গে শঙ্কর ঘোষ বলেন, “দলের যাঁরা বিধায়ক হিসাবে জিতেছেন, তাঁদের মধ্যে অনেকেই শিক্ষা জগতের সঙ্গে যুক্ত। তাঁদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি বিশিষ্ট শিক্ষাবিদদের মতামতও নেওয়া হচ্ছে। মানুষ কী চাইছে, সেটা আমরা জানি। সমস্ত বিষয় নিয়ে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট মুখ্যমন্ত্রীর কাছে জমা দেওয়া হবে।”
যদিও সরকারিভাবে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত ঘোষণা হয়নি, তবুও শঙ্কর ঘোষের বক্তব্যে স্পষ্ট, শিক্ষানীতিতে বড় পরিবর্তনের পথে হাঁটতে পারে রাজ্য সরকার। বিশেষ করে পড়াশোনার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন ব্যবস্থাকে আরও কঠোর করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।



