দলের নীতিবিরুদ্ধ কার্যকলাপের কারণে প্রথমে ২ জন ও পরে ৩ জন নেতাকে এদিন বহিষ্কার করলেন শরদ পাওয়ার। বহিষ্কৃত এই নেতারা হলেন, এনসিপির দুই লোকসভা সাংসদ প্রফুল্ল প্যাটেল ও সুনীল তৎকারে, দলের আঞ্চলিক সাধারণ সম্পাদক শিবাজি রাও গারজে, দলের আকোলা সিটি জেলা সভাপতি বিজয় দেশমুখ এবং মুম্বই বিভাগের কার্যকরী সভাপতি নরেন্দ্র রানে। প্রফুল্ল প্যাটেল ও সুনীল তৎকারের বহিষ্কার প্রায় নিশ্চিত ছিল। বাকী তিন নেতা অজিত পাওয়ারের উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবার অনুষ্ঠানে হাজির থাকার অপরাধে বহিষ্কৃত হলেন।
শিবসেনার পর এবার এনসিপি। মহারাষ্ট্রের আরও একটি শক্তিশালী সংগঠনে ভাঙন। রবিবাসরীয় দুপুরে রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলে অজিত পাওয়ার। বিগত বেশ কিছু সময় ধরে গুঞ্জন ছড়িয়েছিল। এনসিপি সভাপতি পদে পুনরায় শরদ পাওয়ারের প্রত্যাবর্তন গুঞ্জনের আগুনে ঘি ঢেলেছিল। অবশেষে জল্পনায় শিলমোহর।
গত মঙ্গলবার কলকাতা সফরে এসেছিলেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। নবান্নে বৈঠক করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। নবান্নে অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা ছিল তুঙ্গে। বৈঠক শেষে কেজরিওয়ালকে পাশে নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেন মমতা। সেখানেই তিনি বলেন, “একমাত্র সুপ্রিম কোর্ট পারে দেশকে বাঁচাতে।’ পাশাপাশি সকল বিরোধী দলগুলিকে একসঙ্গে কাজ করার আবেদন জানান তিনি।
মুম্বই সফরে এসে শরদ পাওয়ারের সঙ্গে দেখা করতে পারেন নীতীশ কুমার। এনিয়ে এনসিপি সভাপতি বলেছিলেন, "আমরা অবশ্যই দেখা করব যদিও আমার কাছে সমস্ত তথ্য নেই। আমাদের মূল উদ্দেশ্য বিজেপি সরকারের বিকল্প নিয়ে আসা।” তিনি আরও বলেন, “মমতা হোক বা নীতীশ সকলেরই একই উদ্দেশ্য। আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”
গতমাসেই কলকাতা সফরে এসেছিলেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী। নবান্নে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক হয়েছিল তাঁর। তখনই ঘরোয়া বৈঠকে বিরোধী দলগুলিকে একজোট হওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি জানা গিয়েছিল, মমতার প্রস্তাব মতো বিরোধী শিবিরের মহাসম্মেলন হতে চলেছে চলতি মাসেই।
তিনি আরও বলেন, "আমি কোনওভাবেই দলের নেতাদের রাজি করাতে পারতাম না। তাই অনেক ভেবেই তাঁদের না জানিয়েই পদত্যাগ ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিই। আমি ভেবেছিলাম হয়তো তাঁদের রাজি করিয়ে ফেলব কিন্তু আমি পারিনি। তাঁদের আর্জির মান্যতা দিয়েই পুনরায় দায়িত্বে ফিরেছি।"
গত মঙ্গলবার নিজের আত্মজীবনী ‘Lok Maze Sangati' প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসে এনসিপি সভাপতি পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করেন মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। ওইদিনই জানিয়েছিলেন দলের পরবর্তী সভাপতি গঠন করবে এনসিপি কমিটি।