ভোটের দিন একাধিক বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী দেখা যায়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে। হাইকোর্টের ভর্ৎসনার মুখেও পড়তে হয়েছে। তবে আর এইসমস্ত জটিলতার মধ্যে পড়তে চায় না রাজ্য। তাই ভোট পরবর্তী সময়ে কোথায় কীভাবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ব্যবহার হবে তা নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করল নবান্ন।
পঞ্চায়েত ভোট শেষ। এবার বৃহত্তর পর্যায়ে লড়াইয়ের প্রস্তুতি শুরু। অন্তত সেই পরিকল্পনা নিয়েই ময়দানে নামছে বাংলার শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। আগামী ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকেই সুর চড়াবে তারা। শহীদ দিবস উপলক্ষে এই সমাবেশ বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
হাওড়ার সাঁকরাইলের ১৫ টি বুথে ভোটের দিন ব্যালট পেপার ছিনতাই হয়েছিল। ভোট গণনা শেষ হলে দেখা যায় ওই সবকটি বুথে তৃণমূল জিতেছে। এরপরই বিরোধীরা সরব হয়। এদিকে বিডিও-র এই চাঞ্চল্যকর রিপোর্টের ভিত্তিতে ১৫ টি বুথে নতুন করে ভোট ঘোষণা করে কমিশন। এটি কোনও পুনর্নিবাচন নয়, পঞ্চায়েত আইন অনুযায়ী নতুন করে ভোট নেওয়া হবে। বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে কমিশন। এনিয়ে নানা মহলে আলচনা শুরু হয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, হাইকোর্টে বুথ ভিত্তিক যে অভিযোগ জমা পড়েছে তার জেরেই নড়েচড়ে বসে পড়েছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। তাই তড়িঘড়ি ব্যবস্থা নেওয়া হল।
পঞ্চায়েত নির্বাচনের হিংসার ঘটনায় সরব বিরোধী দলগুলি। পরিস্থিতি পরিদর্শনে দিল্লি থেকে এসেছে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম বাংলায়। বৃহস্পতিবার সকালেই রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের সঙ্গে দেখা করতে রাজভবনে গিয়েছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সহ দিল্লির টিমের সদস্যরা। রাজ্যপালের সঙ্গে একটি বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেন বিএসএফ আইজি সহ শুভেন্দু অধিকারীও। এনিয়েই বিস্ফোরক দাবি করলেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ।
পঞ্চায়েত ভোট ঘিরে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। নির্বাচন ঘোষণার পর থেকে দফায় দফায় রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে বাংলা। পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে রাজভবনে পিস রুম খোলা হয়। ভোট গ্রহণের দিন এমনকি গণনা পর্বে ও রাজ্যে হিংসার অভিযোগ সামনে এসেছে। পিছর রুমে জমা পড়েছে অভিযোগ। এ নিয়ে এবার করা ব্যবস্থা নিলেন রাজ্যপাল। রাজ্য নির্বাচন কমিশন কে আদালতে জবাব দেওয়ার নির্দেশ দিলেন তিনি।
পঞ্চায়েত নির্বাচনে বাংলাজুড়ে হিংসা ছড়িয়েছে। প্রাণ হারিয়েছে বহু মানুষ। শাসক দলের বিরুদ্ধে অশান্তি ছড়ানো, ভোট লুঠ সহ একাধিক অভিযোগ এনেছে বিরোধী দলগুলি। বুধবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে সকল অভিযোগের বিরুদ্ধে সরব হলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কান্না ভেজা গলায় হাতজোড় করে প্রার্থনা করেন তিনি। এছাড়াও একাধিক ইস্যুতে কথা বলেন তিনি।