নজরবন্দি ব্যুরো: পঞ্চায়েত নির্বাচনে বাংলাজুড়ে হিংসা ছড়িয়েছে। প্রাণ হারিয়েছে বহু মানুষ। শাসক দলের বিরুদ্ধে অশান্তি ছড়ানো, ভোট লুঠ সহ একাধিক অভিযোগ এনেছে বিরোধী দলগুলি। বুধবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে সকল অভিযোগের বিরুদ্ধে সরব হলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কান্না ভেজা গলায় হাতজোড় করে প্রার্থনা করেন তিনি। এছাড়াও একাধিক ইস্যুতে কথা বলেন তিনি।
আরও পড়ুন: পঞ্চায়েত ভোট মিটতেই তৎপর ED, রাজ্যের মন্ত্রীকে তলব করা হল দিল্লিতে
এদিন মুখ্যমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “হিংসা হিংসা করে সারা ভারতবর্ষে আমাদের বদনাম করলেন। আমি মানুষের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। বাংলার বদনাম যারা করেছেন, বাংলার সম্মান নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছেন, একমাত্র ব্যবসার স্বার্থে, তাঁদের চিনে রাখুন। ক্ষমা সবসময় হয় না।” যোগ করেন, “একটা-দুটো আসনের জন্য আমি চিন্তিত নই। আমার কাছে আগে মানুষ।” কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিদ্বেষমূলক মনোভাব বিজেপির। দাম্ভিকতা কোনও রাজনৈতিক দলের থাকা উচিত নয়। আমি অপরাধ করলে শাস্তি মেনে নেব, কিন্তু তা বলে এত মিথ্যে।” বাংলার পঞ্চায়েত হিংসায় কেন্দ্র ফ্যাক্ট ফাইণ্ডিং টিম পাঠানো হয়েছে। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ফ্যাক্ট ফাইণ্ডিং টিম ও এজেন্সি দিয়ে রাজনীতি হয় না। এভাবে দেশ চলে না। দেশ চালাতে গেলে ধৈর্য রাখতে হয়।” যোগ করেন, “বিধানসভা নির্বাচন হয়েছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী ও জাতীয় নির্বাচন কমিশনের নজরদারিতে। যদি কোথাও কোনও ভুল ভ্রান্তি হয়, বলুন আমাদের।”

পঞ্চায়েতের প্রচারে উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে দুর্ঘটনার মুখে পড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হেলিকপ্টার। এ নিয়ে বিরোধীরা নানা কটাক্ষ করেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর পাল্টা জবাব, “একটা মানুষ অসুস্থ হলে আরোগ্য কামনা করে। তারা কিন্তু অসুস্থ হলে আমি ফোন করি, এটা কিন্তু আমাদের সৌজন্যতা। আমি কুৎসা হাসিমুখে মেনে নিয়েছিল। এর বিরুদ্ধে বদলা নেব না।” বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, “বিভিন্ন জায়গায় আমাদের নামে অপপ্রচার করে বিরোধীরা আমাদের শক্তি বাড়িয়েছে।” ডোমকল, ভাঙড়ে গণ্ডগোল হয়েছে, কিন্তু সেখানে তৃণমূল জেতেনি, তাহলে অশান্তি করল কে? এই প্রশ্ন করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায় এই সব জায়গায় প্রতিবার ঝামেলা হয়।

পঞ্চায়েতের ভোট হিংসায় একের পর এক মৃত্যু। বুধবার নবান্নের সাংবাদিক বৈঠকে শোকজ্ঞাপন করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিহতদের পরিবারের জন্য দুই লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা করেন। পরিবারের একজনকে হোমগার্ডের চাকরি দেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বাংলায় বিক্ষিপ্ত ঘটনা ঘটেছে। অনেক জেলাতেই কোনও অশান্তির ঘটনা ঘটেনি। ঘটনা ঘটেছে দুটি জেলায়, একটি মুর্শিদাবাদ অন্যটি মালদহ। ২ টি জেলার জন্য ২৩ টি জেলাকে খবরে আনা হচ্ছে।
‘ভারতবর্ষে আমাদের বদনাম করলেন’, জোড় হাত, গলা ভিজল মমতার




