নজরবন্দি ব্যুরো: পঞ্চায়েত ভোট ঘিরে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। নির্বাচন ঘোষণার পর থেকে দফায় দফায় রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে বাংলা। পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে রাজভবনে পিস রুম খোলা হয়। ভোট গ্রহণের দিন এমনকি গণনাপর্বেও রাজ্যে হিংসার অভিযোগ সামনে এসেছে। পিস রুমে জমা পড়েছে অভিযোগ। এ নিয়ে এবার কড়া ব্যবস্থা নিলেন রাজ্যপাল। রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে আদালতে জবাব দেওয়ার নির্দেশ দিলেন তিনি।
আরও পড়ুন: একলাফে ২৩০ থেকে ৩৩৬, সুকান্ত মজুমদারের জেলায় ৬ শতাংশ ভোট বাড়াল BJP
রাজভবন সূত্রে খবর, পঞ্চায়েত নির্বাচন নিয়ে পিস রুমে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৭০০০ অভিযোগ জমা পড়েছে। এগুলির বিচার বিভাগীয় স্ক্রুটিনির জন্য সমস্ত অভিযোগ হাইকোর্টে পেশ করার নির্দেশ দিয়েছেন। তার প্রেক্ষিতেই অভিযোগগুলির জবাব রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে আদালতে জানাতে বলেছেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। ইতিমধ্যেই এই নির্দেশিকা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। গত জুন মাসের শুরুতেই পঞ্চায়েত নির্বাচন ঘোষণা করে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। এরপর মনোনয়ন জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়। কেবল মনোনয়ন পর্বেই প্রচুর রক্ত ঝরেছে বাংলায়। ভাঙড়, ক্যানিং সহ কয়েকটি ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান রাজ্যপাল। সাংবাদিক বৈঠকে কমিশনার রাজীব সিনহার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

গত ৮ জুলাই এক দফাতে পঞ্চায়েত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু সকাল থেকেই একের পর এক হিংসার অভিযোগ। বোমাবাজি, গুলি, খুনের অভিযোগে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয় বাংলাজুড়ে। ভোট হিংসায় বহু তরতাজা প্রাণ বলি হয়েছে। এদিকে আতঙ্কিত অবস্থায় সাধারণ মানুষ পিস রুমে অভিযোগ জানাতে শুরু করেন। পুনর্নির্বাচনের দিন অর্থাৎ সোমবার বিক্ষিপ্ত অশান্তি ঘটেছে। ভোট গণনার দিনেও বিভিন্ন এলাকায় পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়। ধীরে ধীরে জমতে থাকে অভিযোগের পাহাড়। এবার কড়া নির্দেশ রাজ্যপালের।
![]()
উল্লেখ্য, নির্বাচন মিটলেও পঞ্চায়েত সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তি হয়নি আদালতে। বুধবার ভোট হিংসা মামলার শুনানিতে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম স্পষ্ট জানান, জয়ী প্রার্থীদের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে মামলার ভবিষ্যতের উপর। হিংসা নিয়ন্ত্রণে রাজ্যের ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালত। এ বিষয়ে রাজ্য ও কমিশনের রিপোর্ট তলব করেছে কলকাতা হাইকোর্ট।
রাজভবনে ‘হিংসার অভিযোগের পাহাড়’, কমিশনারকে কড়া নির্দেশ রাজ্যপালের




