নজরবন্দি ব্যুরোঃ দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় রাজনীতির অঙ্ক বেশ জটিল। তৃণমূলের আধিপত্য থাকলেও এই জেলায় বিজেপির প্রতিপত্তিও কিছু কম নয়। ২০১৮-তে এই জেলার একাধিক পঞ্চায়েতে জয়ী হয় বিজেপি (Dakshin Dinajpur Panchayat Election Results 2023)। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল জেতে ৩টি আসনে বিজেপি পায় ৩টি আসন।
আরও পড়ুনঃ উত্তরবঙ্গে কমবে বৃষ্টির পরিমাণ, শুক্রবার থেকেই দক্ষিণে ভারী বর্ষণ!


রাজ্যের প্রভাবশালী মন্ত্রী বিপ্লব মিত্র এই জেলারই বিধায়ক। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় একটি মাত্র লোকসভা কেন্দ্র রয়েছে। সেটি হল বালুরঘাট। এই আসন থেকে জয়ী হয়ে সাংসদ হন বিজেপির বর্তমান রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। অন্যদিকে ব্যাপক গোলমালের মধ্যে দিয়ে সম্প্রতি পঞ্চায়েত নির্বাচন সম্পন্ন হলেও বিজেপি অন্য জেলার থেকে তুলনামূলক ভাল ফল করেছে এই জেলায়।

মনোনয়ন থেকে গণনা, ৩৫ দিনে ভোট সন্ত্রাসের বলি ৪৭। তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিরোধীদের অভিযোগ, নোমিনেশন থেকে ভোট গ্রহন ভায়া গণনা সবেতেই ব্যাপক কারচুপি হয়েছে প্রশাসন কে কাজে লাগিয়ে। বিশেষ করে জেলা পরিষদের ভোট গণনায় যে কারচুপি হয়েছে তা নজিরবিহীন। কিন্তু গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরের গণনায় কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পেরেছে বিরোধীরা। রাজ্যে বিজেপির মূল তিন নেতা সুকান্ত মজুমদার, দিলীপ ঘোষ এবং শুভেন্দু অধিকারীর জেলার দিকে বিশেষ নজর ছিল। কিন্তু সবার চোখ ছিল আপত শান্ত, মিতবাক এবং বঙ্গ রাজনীতির অন্যতম মার্জিত নেতা সুকান্ত মজুমদারের এলাকার দিকে। কি হল এই জেলায়?


গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে একলাফে ২৩০ থেকে ৩৩৬, সুকান্ত মজুমদারের জেলায় ৬ শতাংশ ভোট বাড়াল BJP

শেষবার অর্থাৎ ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় গ্রাম পঞ্চায়েতে শাসক দল অর্থাৎ তৃণমূল কংগ্রেস জয়ী হয়েছিল ৬০০ টি আসনে। বিজেপি পেয়েছিল ২৩০ টি আসন। এইবার অর্থাৎ ২০২৩ নির্বাচনে গ্রাম পঞ্চায়েতে বিজেপি জয়ী হয়েছে ৩৩৬ টি আসনে। অর্থাৎ গতবারের থেকে মোট ১০৬ টি আসন বেশি পেয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে গতবারের পঞ্চায়েত নির্বাচনের থেকে বিজেপির ভট বেড়েছে ৬ শতাংশ।
বিজেপি রাজ্য সভাপতি তথা বালুর ঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদারের দাবি, যদি নিরপেক্ষ ভাবে ভোট করাত কমিশন এবং প্রশাসন তৃণমূলের হয়ে কাজ না করত তাহলে ফলাফল আরও ভাল হত। বিষেষ করে জেলা পরিষদের ৫-৬ আসন নিশ্চিতভাবেই বিজেপির পক্ষে আসত। কিন্তু কাউন্টিং-এ কারচুপি করে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে তাঁদের। সুকান্ত বলেছেন, ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে ভোট করাবে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন। সেখানে কারচুপির কোন প্রশ্নই থাকবে না। ভোট হবে নিরপেক্ষ ভাবে। তখন বোঝা যাবে তৃণমূলের পায়ের তলায় আসলে কোন জমি নেই।







