ক্রমেই তা হিংসাত্মক আকার ধারণ করে। মেতেই সংখ্যাগুরু ইম্ফল উপত্যকায় বেশকিছু বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। আর এর প্রতিক্রিয়াও হয় প্রায় সঙ্গে সঙ্গে। গোটা রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ে হিংসা। এখনও মণিপুর কার্যত নরককুণ্ড।
সেখানে ১ হাজার ৭২০ জন শরণার্থী রয়েছেন। তাদের সঙ্গেও দোভাষীর মাধ্যমে কথা বলেন তৃণমূলের পাঁচ সাংসদ। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে তাঁদের বক্তব্য শুনে নেন। সংঘর্ষের নেপথ্যের কাহিনিও জেনে নেন। সকলেই দুর্বিষহ জীবনের ইতি টানতে চান।
গত দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে অশান্ত উত্তর পূর্বের রাজ্য মণিপুর। এবার হিংসা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে মণিপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দিল তৃণমূলের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল। এই দলে রয়েছেন ডেরেক ও’ব্রায়েন, দোলা সেন, কাকলি ঘোষদস্তিদার, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, এবং সুস্মিতা দেব। ইম্ফলে গিয়ে তাঁরা ত্রাণের ব্যবস্থা করবেন এবং মহিলা ও শিশুরা যেখানে বেশি আক্রান্ত সেই জায়গাগুলির পরিস্থিতিই তাঁরা খতিয়ে দেখবেন।
পদত্যাগের সম্ভাবনা মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিংয়ের। এমনকি শুক্রবারই তিনি পদত্যাগ করতে পারেন বলে জল্পনা। কারণ, রাজ্যপাল অনুসূয়া উইকির সঙ্গে আজই দেখা করতে চলেছেন বীরেন সিং। বিগত প্রায় দু’মাস ধরে হিংসা অব্যাহত মণিপুরে। তাহলে প্রশ্ন উঠছে, হিংসা না থামাতে পাড়ার ব্যর্থতা নিয়েই কি চাপের মুখে পদত্যাগ করতে চলেছেন বীরেন?
সংঘর্ষে এখনও অবধি ১০০-রও বেশি সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রের তরফে সেনা বাহিনী, অসম রাইফেলসের বাহিনী নামানো হয়। রাজ্যের একাধিক জায়গায় এখনও কার্ফু জারি রয়েছে, বন্ধ রয়েছে ইন্টারনেট পরিষেবাও। এই পরিস্থিতে অবশেষে ডাকা হল সর্বদলীয় বৈঠক।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে ফের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সম্মুখীন হয় মণিপুরের রাজধানী ইম্ফল। আগুন ধরানো হয় বেশ কয়েকটি বাড়িতেও। নতুন করে হিংসা ছড়িয়ে পড়েছে ইম্ফলের চেকন অঞ্চলে। রবিবার রাত থেকেই চেকন এলাকা জুড়ে অশান্তির সৃষ্টি হয়। মণিপুরের রাজধানী ইম্ফলের পশ্চিম জেলায় তিনজন আহত হয়েছে। তাদের লক্ষ্য করেই গুলি ছোড়া হয়। এই ঘটনার জেরে একজন প্রাক্তন বিধায়ককে গ্রেফতার করা হয়েছে।