নজরবন্দি ব্যুরো: গত দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে অশান্ত উত্তর পূর্বের রাজ্য মণিপুর। এবার হিংসা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে মণিপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দিল তৃণমূলের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল। এই দলে রয়েছেন ডেরেক ও’ব্রায়েন, দোলা সেন, কাকলি ঘোষদস্তিদার, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, এবং সুস্মিতা দেব। ইম্ফলে গিয়ে তাঁরা ত্রাণের ব্যবস্থা করবেন এবং মহিলা ও শিশুরা যেখানে বেশি আক্রান্ত সেই জায়গাগুলির পরিস্থিতিই তাঁরা খতিয়ে দেখবেন।
আরও পড়ুন: সাহারা ইন্ডিয়ায় লগ্নিকারীদের জন্য সুখবর, ৪৫ দিনের মধ্যে টাকা ফেরত পাবেন তাঁরা


প্রসঙ্গত, গত শুক্রবারই তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের মণিপুরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষবেলায় মণিপুর সরকার তিন-চার দিনের জন্য সফর পিছিয়ে দেওয়ার ‘লিখিত’ অনুরোধ করে। তাই আজ, বুধবার উত্তর পূর্বের রাজ্যে পাড়ি দিলেন ডেরেক ও’ব্রায়েনরা। কলকাতা বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে তৃণমূলের রাজ্যসভার সদস্য সুস্মিতা দেব বলেন, ‘মণিপুরে যাওয়ার জন্য আমরা আগেই মণিপুর সরকারের কাছে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু অনুমতি পাননি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও যাওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন কিন্তু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফ থেকে সেই অনুমোদন দেওয়া হয়নি। আমরা মণিপুরের পার্বত্য ও উপত্যকা এলাকায় যাব’। মণিপুরে হিংসা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে সবিস্তার রিপোর্ট দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পেশ করা হবে বলেও জানিয়েছেন সুস্মিতা।

প্রসঙ্গত, বিগত ৩ রা মে থেকেই মণিপুরে কুকি এবং মেইতেই জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। ভারতের উত্তর-পূর্বের এই রাজ্যে কুকিরা জনজাতি সম্প্রদায়ভুক্ত। এবার রাজ্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ মেইতেইরাও জনজাতিকরণে নিজেদের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানায়। তাই নিয়েই বিবাদে জড়ায় প্রাচীন দুটি জাতিগোষ্ঠী। দফায় দফায় চেষ্টা করেও মণিপুরে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনা যায়নি। শান্তি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তার প্রধান করা হয়েছে মণিপুরের রাজ্যপালকে। তবুও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। মুখ্যমন্ত্রী বীরেন সিংহ পদত্যাগ করতে গিয়েও বিক্ষোভের সম্মুখীন হয়ে পদত্যাগ করতে পারেনি।


হিংসা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে মণিপুরে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল








