নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কয়েক দিন আগেই তৃণমূলের যুব নেতা কুন্তল ঘোষকে গ্রেফতার করেছে ইডি। এবার তাপস মণ্ডলকে তলব করা হল। মঙ্গলবার সিজিও কমপ্লেক্সে তলব করা হয়েছে তাঁকে। সূত্রের খবর, সিজিও কমপ্লেক্সে তাঁকে এবং কুন্তলকে মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। কিন্তু চার্জশিটে নাম থাকলেও কেন গ্রেফতার নয় তাপস?
যুব তৃণমূল নেতা কুন্তল ঘোষ গ্রেফতারের পরেই মানিক ভট্টাচার্য ঘনিষ্ঠ তাপস মণ্ডল দাবি করেছিলেন কুন্তলের সঙ্গে ওপর মহলে আরও যোগাযোগ রয়েছে। এবার কুন্তলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বিস্ফোরক তথ্য পেল তদন্তকারী সংস্থা। সূত্রের খবর, চাকরি প্রার্থীদের টাকা নিজে নিতেন না বলেই দাবি করেছেন কুন্তল। বরং ১০ শতাংশ কমিশন তাঁর কাছে যেত বলেই দাবি করেছেন তিনি। টাকার অঙ্ক দেখে চোখ কপালে ওঠার মতো।
কুন্তল ঘোষের যোগাযোগ রয়েছে আরও ওপরে। শনিবার তৃণমূল নেতার গ্রেফতারির পর এমনটাই দাবি করলেন প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের অপসারিত সভাপতি মানিক ভট্টাচার্য ঘনিষ্ঠ তাপস মণ্ডল। একইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, টাকা ফেরতের জন্য কুন্তলকে জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেটা না করে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছিল কুন্তল।
নিয়োগ দুর্নীতিতে দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদের পর তৃণমূলের যুব নেতা কুন্তল ঘোষকে গ্রেফতার করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। তাঁর বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি কালো ডায়েরি। যা নিয়োগ দুর্নীতিতে মোড় ঘোরাচ্ছে বলেই জানা গেছে। সাড়ে ১৯ কোটি টাকা নয়, ৩০ কোটি টাকা তুলেছিলেন কুন্তল ঘোষ। আদালতে এমনটাই দাবি করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
কুন্তলের সঙ্গে কোথায় যোগসূত্র পেল তদন্তকারী সংস্থা? ইডি সূত্রে খবর, প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের অপসারিত সভাপতি মানিক ভট্টাচার্যের সম্পর্কে ইডি যে চার্জশিট দিয়েছিল, সেখানে মিস্টার ঘোষ বলে একজনের নাম উল্লেখ ছিল। সেটা কুন্তল বলেই জানা গেছে। মানিকের চার্জশিটে ছিল কুন্তলের নাম থাকতেই তাঁকে তলব করা হয়েছে।
অন্যদিকে, শুক্রবারেই কুন্তলের নিউটাউনে উজ্জ্বলা আবাসনে পৌঁছে যান ইডি আধিকারিকরা। সেখানে কুন্তলের দুটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট রয়েছে বলে সূত্রের খবর। সেই দুটি ফ্ল্যাটেই সকাল থেকে চলছে তল্লাশি। সব মিলিয়ে, নিয়োগ দুর্নীতিতে জোড়া তল্লাশি অভিযান ইডির। নজরে তৃণমূলের দুই নেতা।
নিয়োগ দুর্নীতি মামলাকে কেন্দ্র করে বিরাট প্রশ্নে মুখে রাজ্যের শাসক দল। সম্প্রতি সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে হুগলী জেলা যুব তৃণমূলের নেতা কুন্তল ঘোষের নাম। গত বুধবারের পর ফের ফের কুন্তলকে সিবিআইয়ের তলব। তা মেনেই সিবিআইয়ের দফতরে হাজিরা দিয়েছেন তিনি। কেন আট দিনের মাথায় ফের কুন্তলকে সিবিআইয়ের তলব ঘিরে একাধিক প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে শুরু করেছে।