সোমবার রাতে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে সুজয়ের স্ত্রীর। এরপরেই মঙ্গলবার স্ত্রী বাণী ভদ্রের প্রয়াণে জামিনের আবেদন জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন কালীঘাটের কাকু ওরফে সুজয়কৃষ্ণ। কিন্তু আদালতে জামিন পেলেন না কালীঘাটের কাকু। তবে স্ত্রীর শেষকৃত্যে প্যারোলে মুক্তি পেতে পারেন তিনি এমনটাই জানিয়েছে আদালত।
নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গোপাল দলপতিকে জেরা করে কালীঘাটের কাকু ওরফে সুজয় কৃষ্ণ ভদ্রের নাম উঠে এসেছিল। এরপরই কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ইডি তাঁকে একাধিকবার তলব করে। তাঁর বাড়িতেও তল্লাশি অভিযান করা হয়। অবশেষে তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় কালীঘাটের কাকুকে।
ফের একবার সংবাদের শিরোনামে কালীঘাটের কাকু সুজয়কৃষ্ণ! এবার নিয়োগ দুর্নীতিকাণ্ডে তদন্তকারীদের হাতে এসেছে এক রহস্য ডায়েরি! ইডি সূত্রে খবর, নিয়োগকাণ্ডে ধৃত সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রের এক ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির কাছ থেকে ওই ডায়েরিটি উদ্ধার করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, সুজয়ের ওই ডায়েরি সাঙ্কেতিক ভাষায় লেখা রয়েছে একাধিক নাম!
সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রের ৬ টি সংস্থা রয়েছে। এই সংস্থাগুলি শুরু থেকেই তাঁদের নজরে ছিল। মূলত টাকার লেনদেন এবং হিসেব খতিয়ে দেখছিল ইডি আধিকারিকরা। সেই সূত্র ধরেই দুজন হিসেবরক্ষককে তলব করা হল। কালীঘাটের কাকুর একাধিক সংস্থায় টাকার উৎস, লেনদেনের খতিয়ান সহ বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর জানতে চায় গোয়েন্দা সংস্থা।
এই বিপুল পরিমাণ টাকা নিয়োগ দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত। দুর্নীতির কালো টাকা সাদা করতেই সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র নির্মাণ সংস্থায় লাগিয়েছিলেন বলেই অনুমান। অন্যদিকে, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হওয়া বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতা শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে কালীঘাটের কাকুর যোগসূত্র পেয়েছে ইডি।
প্রশ্নের মুখে মেজাজ হারালেন কালীঘাটের কাকু! আর মেজাজ হারিয়েই একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন নিয়োগ দুর্নীতিতে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট অর্থাৎ ইডির হাতে গ্রেফতার হওয়া ‘কালীঘাটের কাকু’ ওরফে সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র। বললেন, "আমার ২০০ কোটি টাকা তো আপনার কী? ইডির অভিষেককে তলব করে কোনও লাভ হবে না!"
দক্ষিণ কলকাতার ব্যবসায়ী সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র ও তাঁর পরিচিত এবং সংস্থার নামে অন্তত ৫০ টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। অ্যাকাউন্টগুলি একাধিক ব্যাঙ্কে রয়েছে। তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, এই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলির মাধ্যমে নিয়োগ দুর্নীতির বিপুল কালো টাকা সাদা করা হয়েছে। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হওয়া তৃণমূলের দুই বহিষ্কৃত নেতা কুন্তল ঘোষ এবং শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ওই অ্যাকাউন্টগুলিতে কোনও লেনদেন হয়েছে কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।