নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহার বিপুল সম্পত্তির হদিশ পেয়েছে সিবিআই। এবার সিবিআইইয়ের নজর পড়েছে জীবনকৃষ্ণের সমস্ত অ্যাকাউন্টের দিকে। জীবনকৃষ্ণের প্রায় ১০ টি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দিল সিবিআই। সূত্রের খবর, চাকরি দুর্নীতির কত টাকা কোথায় রেখেছিলেন জীবনকৃষ্ণ? তার সঙ্গে কার কার টাকার লেনদেন হয়েছিল? সেই সম্পর্কে জানতেই সমস্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখার কাজ শুরু হয়েছে।
দীর্ঘ ৬৫ ঘন্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ এবং তল্লাশি অভিযানের পর মুর্শিদাবাদের বড়ঞার তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহাকে গ্রেফতার করেছে সিবিআই। সোমবারই তাঁকে আদালতে পেশ করে হেফাজতে নিতে চায় তদন্তকারী সংস্থা। গত ৬৫ ঘন্টা ধরে দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর যা নিয়ে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। সোমবার সাংবাদিক বৈঠক থেকে এনিয়ে মুখ খুলতে দেখা গেল তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তাঁর কথায়, ইটস আ গেম প্ল্যান।
নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তদন্ত ও তল্লাশি করতে শুক্রবার হাজির হয়েছিল সিবিআইয়ের একটি দল। সিবিআইয়ের হাত থেকে বাঁচতে বাড়ির পাশের পুকুরে ফোন ফেলে দিয়েছিলেন জীবনকৃষ্ণ। রবিবার সকালে প্রথম ফোনটি উদ্ধার হয়েছিল। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর মিলল জীবনকৃষ্ণের দ্বিতীয় ফোন। গত কয়েক ঘন্টা ধরে তল্লাশি অভিযানের পর বিরাট সাফল্য পেল সিবিআই।
পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং মানিক ভট্টাচার্যের পর নিয়োগ দুর্নীতিতে অন্যতম বড় পদক্ষেপ তদন্তকারী সংস্থার। ইতিমধ্যেই তাঁকে নিজাম প্যালেসে নিয়ে এসেছে সিবিআই। জীবনকৃষ্ণের আন্দির বাড়ি থেকে যে সমস্ত তথ্য পাওয়া গেছে, সেই সমস্ত তথ্যকে সামনে রেখে সোমবার জীবনকৃষ্ণকে হেফাজতে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। সিবিআই সূত্রে খবর, গরু পাচারের সঙ্গে যোগ ছিল জীবনকৃষ্ণের।
সোমবার ভোরবেলা স্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়া হয় অ্যারেস্ট মেমো। এই মুহুর্তে নিজাম প্যালেসে উপস্থিত হয়েছে জীবনকৃষ্ণের কনভয়। জিজ্ঞাসাবাদ প্রক্রিয়া ফের শুরু করতে চলেছে তদন্তকারী সংস্থা। কিন্তু এরই মধ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসতে শুরু করেছে। সিবিআই সূত্রে খবর, জীবনকৃষ্ণকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও ১০ জন বিধায়কের নাম পেয়েছে সিবিআই।
ফোন দেখা মাত্রই নিজের ফোন বলে দাবি করেছিলেন মুর্শিদাবাদের বড়ঞার বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা। অথচ বিকেল গড়াতে অন্য ছবি দেখা গেল। সিবিআইয়ের তরফে দাবি করা হচ্ছে, সকালে উদ্ধার হওয়া ফোনটি জীবনকৃষ্ণের স্ত্রীর! সিবিআইকে বিভ্রান্ত করতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছিলেন তৃণমূল বিধায়ক। এমনটাই মনে করছে তদন্তকারী সংস্থা।