নজরবন্দি ব্যুরোঃ দীর্ঘ ৬৫ ঘন্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ এবং তল্লাশি অভিযানের পর মুর্শিদাবাদের বড়ঞার তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহাকে গ্রেফতার করেছে সিবিআই। সোমবারই তাঁকে আদালতে পেশ করে হেফাজতে নিতে চায় তদন্তকারী সংস্থা। গত ৬৫ ঘন্টা ধরে দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর যা নিয়ে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। সোমবার সাংবাদিক বৈঠক থেকে এনিয়ে মুখ খুলতে দেখা গেল তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তাঁর কথায়, ইটস আ গেম প্ল্যান।


এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ইটস আ গেম প্ল্যান, যত পারে, যত বেশি বিধায়ককে ইনভলভ করে, তারা যাতে অ্যাসেম্বলি আসতে না পারে, আমাদের সংখ্যাটা কমিয়ে দিতে পারে, বাদবাকি কিনতে পারে, এই সব প্ল্যান করছে। কিন্তু যেহেতু সংখ্যাটা আমাদের অনেক বেশি, এবং বিজেপিরও আরও ৫-৬ জন ৭ জন আমাদের সাথে আছে, সুতরাং এটা কিছু করতে পারছে না। এখনও ৫-৬ জন এমএলএ-কে অলরেডি টার্গেট করেছে। কিন্তু খুঁজে দেখুন তো বিজেপির কোনও এমএলএ-কে টার্গেট করেছে?

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এহেন মন্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। পার্থ চট্টোপাধ্যায়, মানিক ভট্টাচার্যের পর জীবনকৃষ্ণ সাহাকে গ্রেফতার, পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে রাজ্যের শাসক দলকে। তার ওপর বাংলায় এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দাবি করলেন ৩৫ টি আসন পেলেই ২৫ এর আগেই সরকারের পতন হতে পারে। যা নিয়েও এদিন কটাক্ষ করতে পিছপা হননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বরং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও জানিয়েছেন তিনি। কিন্তু জীবনকৃষ্ণদের কার্যকলাপ আগামী দিনে শাসক দলকে বিড়ম্বনায় ফেলবে এবিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
ইটস আ গেম প্ল্যান, জীবনকৃষ্ণের গ্রেফতারি নিয়ে সরব মমতা

অন্যদিকে, জীবনকৃষ্ণকে গ্রেফতারের পর তাঁর বিরুদ্ধে তদন্তে অসহযোগিতা এবং নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তার সম্পর্কে উঠে এসেছে, সেই তথ্যকে সামনে রেখে হেফাজতে নেওয়ার প্রস্তুতি করেছে সিবিআই। নিয়োগ দুর্নীতিতে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা লেনদেনেরও হদিশ পেয়েছে সিবিআই। সবটাকে সামনে রেখে আগামী দিনে আরও তথ্য হাতে পেতে চায় তদন্তকারী সংস্থা।









