নজরবন্দি ব্যুরোঃ নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সম্প্রতি নাম জড়িয়েছে তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ধৃত কুন্তল ঘোষের মুখে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম আসার পরেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তদন্তকারী সংস্থাকে নির্দেশ দেয় কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে উপস্থিত হওয়ার পর স্বস্তি মিলেছিল তৃণমূলের সেকেণ্ড ইন কম্যান্ডের। তারপরেও আগামীকাল অভিষেককে তলব করল সিবিআই।


সিবিআই সূত্রে খবর, আগামীকাল বেলা ১১ টা নাগাদ নিজাম প্যালেসে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সোমবার দুপুর ১ টা ৪০ মিনিট নাগাদ নোটিশ পাঠানো হয়েছে অভিষেককে। সুপ্রিম কোর্টের স্থগিতাদেশের পরেও কেন তলব? তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, আগে থেকেই নোটিশ তৈরি করা হয়েছিল সিবিআইয়ের তরফে। সেকারণেই তলব করা হয়েছে।

ভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তরফে। এমনটাই অভিযোগ তুলে হেয়ার স্ট্রিট থানা ও আলিপুর আদালতের বিচারককে জানান নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ধৃত এবং তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত নেতা কুন্তল ঘোষ। কুন্তল ঘোষের চিঠির বিষয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে এখনই জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে না সিবিআই। বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশে অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। মামলার পরবর্তী শুনানি ২৪ এপ্রিল।
এর আগে কুন্তল ঘোষের চিঠি সম্পর্কে জানার পরেই পদক্ষেপ নেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর নির্দেশ ছিল, প্রয়োজনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করবে ইডি ও সিবিআইইয়ের মতো কেন্দ্রীয় সংস্থা। হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ, একটি সভায় অভিষেক বলেছিলেন তাঁর নাম বলার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে কুন্তল-সহ নিয়োগ দুর্নীতিতে যুক্ত অন্য ধৃতদের। এরপর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ধৃত কুন্তল ঘোষের মুখে একই কথা বারবার শোনা গেছে।


আগামীকাল অভিষেককে তলব করল সিবিআই, সুপ্রিম কোর্টের স্থগিতাদেশের জটিলতার সম্মুখীন অভিষেক

বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় নির্দেশ দেন, বুধবারের মধ্যেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা বিচারককে কুন্তলের অভিযোগপত্র কলকাতা হাইকোর্টে পেশ করতে হবে। তা ছাড়া প্রেসিডেন্সি জেল সুপারের মাধ্যমে হেস্টিংস থানায় যে কুন্তলের যে অভিযোগপত্র গিয়েছে সেটা আদালতে পেশ করতে হবে খোদ কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন তৃণমূল সাংসদ। সোমবার হাইকোর্টের রায়ে স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে।







