পঁচিশে বৈশাখের সকালে কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে যেন মিশে গিয়েছিল বাঙালির দুই চিরন্তন আবেগ— রাজনীতি আর সিনেমা। এক দিকে বাংলার প্রথম বিজেপি সরকারের শপথগ্রহণ, অন্য দিকে টলিউডের একের পর এক পরিচিত মুখের উপস্থিতি। তবে সেই ভিড়ের মধ্যেও যিনি সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছেন, তিনি অভিনেতা জিৎ। কারণ, দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির মঞ্চ থেকে সচেতন দূরত্ব বজায় রাখা এই সুপারস্টারের ব্রিগেডে উপস্থিতি কার্যত নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে।
শনিবার শুভেন্দু অধিকারী পশ্চিমবঙ্গের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বহুদিনের রাজনৈতিক স্বপ্ন পূরণের মুহূর্তে ব্রিগেডে হাজির ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ-সহ বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। আর সেই মঞ্চেই ধবধবে সাদা পাঞ্জাবি ও চোখে রোদচশমা পরে প্রবেশ করতে দেখা যায় টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা জিৎকে।


মুহূর্তে তাঁকে ঘিরে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে উপস্থিত জনতা। অনেকের মতে, রাজনৈতিক নেতাদের স্লোগানের মধ্যেও আলাদা করে শোনা যাচ্ছিল জিতের নাম। আর সেখান থেকেই শুরু হয়েছে নতুন প্রশ্ন— তবে কি এতদিনের ‘অরাজনৈতিক’ ইমেজ বদলাতে চলেছেন অভিনেতা?
টলিউডের বহু তারকাকে গত কয়েক বছরে সরাসরি রাজনৈতিক ময়দানে দেখা গিয়েছে। কেউ শাসকদলের প্রচারে, কেউ আবার বিরোধী শিবিরে সক্রিয় হয়েছেন। কিন্তু সেই তালিকায় কখনও নাম জড়ায়নি জিতের। ইন্ডাস্ট্রির বিতর্ক, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব কিংবা রাজনৈতিক মেরুকরণ— সব কিছুর মধ্যেই বরাবর নিজেকে কাজের জগতেই সীমাবদ্ধ রেখেছেন তিনি।
তবে এ বারের নির্বাচনে বিজেপির জয়ের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় শুভেচ্ছা বার্তা দিয়েছিলেন অভিনেতা। সেই ঘটনার পর থেকেই জল্পনা শুরু হয়েছিল। আর এবার ব্রিগেডে তাঁর সরাসরি উপস্থিতি সেই জল্পনাকে আরও উসকে দিল।


যদিও রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এটিকে এখনই সরাসরি রাজনৈতিক অবস্থান বলা ঠিক হবে না। বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের সাক্ষী থাকতেই হয়তো উপস্থিত ছিলেন জিৎ। কিন্তু অন্য অংশের দাবি, টলিউড এবং নতুন রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্রের মধ্যে ভবিষ্যতের সম্পর্কের ইঙ্গিতও লুকিয়ে থাকতে পারে এই উপস্থিতিতে।
বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে টলিপাড়ার একাংশের সঙ্গে তৃণমূল ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ ওঠার পরে বিজেপি সরকার গঠনের পর শিল্পী মহলের অবস্থান কোন দিকে যায়, তা নিয়েও কৌতূহল বাড়ছে। সেই আবহে জিতের ব্রিগেড উপস্থিতি নিঃসন্দেহে নতুন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।







