মহারাষ্ট্রে দুই শিবিরের লড়াইয়ে আড়াআড়ি ভাবে বিভক্ত শিবসেনা। ১৬ বিধায়কদের সদস্যপদ খারিজের দাবিতে সরব হচ্ছে উদ্ধব ঠাকরে শিবির। অন্যদিকে, বিধায়কদের সদস্য পদ টিকিয়ে রাখ্যতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হল একনাথ শিন্ডে শিবির। একইসঙ্গে অজয় চৌধুরীকে পরিষদীয় দলনেতা করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও সুপ্রিম কোর্টের মামলা করলেন শিন্ডে। সূত্রের খবর, আর কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই মামলার শুনানি।
গতকাল থেকেই বারবার নিরাপত্তার দাবি তুলছিলেন শিবসেনার বিক্ষুব্ধ শিবিরের নেতারা। আজ সেই বিধায়কদের পরিবারগুলিকে দ্রুত নিরাপত্তার দাবি মহারাষ্ট্র পুলিশের ডিজিপিকে চিঠি দিলেন রাজ্যপাল ভগত সিং কোশিয়ারি। তাঁর বক্তব্য, শিন্ডে শিবিরের বিধায়কদের নিরাপত্তা দেওয়া হোক। সব মিলিয়ে মহারাষ্ট্র নিয়ে যে নাটকীয় পর্ব শুরু হয়েছে তা কোনও অংশের বলিউড ছবির থেকে কম কিছু নয়।
সূত্রের খবর, সেই বৈঠকে স্থির হয়েছে, নিজেদের দলের নাম ‘শিবসেনা বালা সাহেব’ রাখতে চলেছেন বিক্ষুব্ধ বিধায়করা। শোনা যাচ্ছে, ৩৭ জন শিনসেনার বিধায়ক এবং নির্দল বিধায়কদের নিয়ে এই নাম ঘোষণা করবেন একনাথ শিন্ডে। কিন্তু সেইপথে এবার কাঁটা হয়ে দাঁড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব। বালাসাহেব নামে আপত্তি উদ্ধবের।
শুক্রবারেও গুয়াহাটিতে ক্রমাগত বেড়ে চলেছে শিবসেনার ‘বিক্ষুব্ধ’ শিবিরের সংখ্যা। গতকাল আস্থা ভোটের কথা উল্লেখ করে বিজেপিকে কড়া চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দেওয়া শরদ পাওয়ার এখন সরকার রক্ষা নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন। বিক্ষুব্ধদের সংখ্যা বাড়তেই ‘মাতোশ্রী’ পৌঁছলেন পাওয়ার। সঙ্গে রয়েছেন অজিত পাওয়ার, জয়ন্ত পাটিল এবং প্রফুল্ল প্যাটেল।
সোমবার থেকে মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে টলমল অবস্থা। একে বহু শিবসেনার বিধায়করা অসমে জমায়েত হতে শুরু করেছেন। এরই মধ্যে বিস্ফোরক মন্তব্য করে বসলেন মহারষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী। কার্যত শিন্ডের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে তিনি বলেন, একজন বিধায়ক চাইলে আমি ইস্তফা দিতে রাজি।
সকাল বেলায় ৪০ এর অধিক বিধায়ক নিয়ে গুয়াহাটিতে উপস্থিত হয়েছেন মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী একনাথ শিন্ডে। তাই সরকার সামলাতে গিয়ে ঘাম ছুটছে শিবসেনার নেতাদের। এরই মধ্যে শিবসেনা মুখপাত্র সঞ্জয় রাউতের ট্যুইট ঘিরে জল্পনা। তিনি বলেন, গুয়াহাটি থেকে উদ্ধভ সরকার ভাঙার পরিকল্পনা শিন্ডের।
মঙ্গলবারই বিক্ষুব্ধদের রাজি করাতে সুরাত পৌঁছাল উদ্ভবের দুই দূত। মিলিন্দ নারভেকর এবং সাংসদ রঞ্জন ভিকারেদের পাঠিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সুরাতে মন্ত্রী একনাথ শিন্ডের সঙ্গে দেখা করতে চান তাঁরা। অন্যদিকে বিক্ষুব্ধ শিবিরের তিন বিধায়ক মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধভ ঠাকরের সঙ্গে দেখা করেছেন।