পঞ্চায়েত ভোটের আগে অপেক্ষার আর মাত্র আটচল্লিশ ঘন্টা। নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশের সাথে সাথেই রাজ্যের আনাচে কানাচে ঘটছে একের পর এক হিংসার ঘটনা। ইতিমিধ্যেই মৃত্যু হয়েছে ১৫ জনের। এবার ভোটের দিন হিংসা রুখতে নতুন কমিটি গড়ে কড়া পদক্ষেপ নিলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। কমিটির নাম 'পিস অ্যান্ড হারমনি' অর্থাৎ শান্তি ও সম্প্রীতি রক্ষা কমিটি। রাজ্যপাল সাফ সাফ জানিয়েছেন, ভোটের দিন কোনও রকম হিংসা বরদাস্ত করা হবে না।
সমস্ত সূচি বাতিল করে শনিবার কোচবিহার পৌঁছলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। আর কোচবিহার সার্কিট হাউসে রাজ্যপালকে ঘিরে ধরলেন বিজেপি সহ অন্যান্য বিরোধী দলের নেতারা। এদিন রাজনৈতিক হিংসার শিকার মানুষদের সঙ্গে হাসপাতালে গিয়ে কথা বলার পাশাপাশি কোচবিহারের পুঁটিমারিতে মৃত বিজেপি কর্মী প্রশান্ত রায় বসুনিয়ার বাড়িতে গেলেন রাজ্যপাল। পঞ্চায়েত ভোটের আগে দিলেন অহিংসার আশ্বাস।
গত মাসেই রাজ্যের নতুন নির্বাচন কমিশনার হিসেবে রাজীবা সিনহার নাম প্রস্তাব করে ফাইল পাঠানো হয় রাজভবনে। এরপর স্রেফ দায়িত্ব গ্রহণই নয়, পঞ্চায়েত নির্বাচনের দিনও ঘোষণা করে দেন রাজ্যের নবনিযুক্ত নির্বাচন কমিশনার।
কিন্তু কমিশনার সেই তলব এড়িয়ে যান বলে অভিযোগ। বুধবারও রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করেননি কমিশনার। এর পরই কমিশনারের জয়েনিং রিপোর্ট ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন রাজ্যপাল।
তিনি জানান, ‘আমরা খুশি। নিশ্চিত ভাবে পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন হওয়া উচিত, রাজ্যপাল এক জন শিক্ষিত মানুষ। তিনি অনেক বই প্রকাশ করেছেন। তিনি ইতিহাসকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। এটা স্বাগত জানানোর মতো বিষয়’।
পঞ্চায়েতের আগেই উত্তপ্ত রাজ্য-রাজনীতি! মনোনয়ন পর্বে হিংসা, অশান্তি , বোমাবাজি! সব মিলিয়ে রীতিমত রণক্ষেত্রে বাংলা। রাজ্যের একাধিক প্রান্ত থেকে উঠে আসছে একের পর এক খুনের ঘটনা। এহেন পরিস্থিতিতে শুক্রবার বিধ্বস্ত ভাঙড় পরিদর্শনে গেছিলেন রাজ্যপাল। সেখানে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে হিংসার বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দেন তিনি। এরপরেই শনিবার সকালেই রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিন্হাকে তলব করেন রাজ্যপাল।
পঞ্চায়তেরে দিনক্ষণ ঘোষণা হতেই উত্তপ্ত রাজ্য! মনোনয়নপত্র জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে বঙ্গজুড়ে একের পর এক অশান্তির ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। ইতিমধ্যেই এই সব হিংসার ঘটনায় রাজ্যকে তলব করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। পাশাপাশি আসন্ন পঞ্চায়েতে রাজ্যের নিরাপত্তায় কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবেই বলে জানিয়েছে আদালত।