নজরবন্দি ব্যুরো: পঞ্চায়েতের আগেই উত্তপ্ত রাজ্য-রাজনীতি! মনোনয়ন পর্বে হিংসা, অশান্তি , বোমাবাজি! সব মিলিয়ে রীতিমত রণক্ষেত্রে বাংলা। রাজ্যের একাধিক প্রান্ত থেকে উঠে আসছে একের পর এক খুনের ঘটনা। এহেন পরিস্থিতিতে শুক্রবার বিধ্বস্ত ভাঙড় পরিদর্শনে গেছিলেন রাজ্যপাল। সেখানে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে হিংসার বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দেন তিনি। এরপরেই শনিবার সকালেই রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিন্হাকে তলব করেন রাজ্যপাল।
আরও পড়ুন: অত্যাধিক গরমে প্রায়শই মিলছে না বিদ্যুৎ পরিষেবা! ক্ষুব্ধ জনতার রোষের মুখে CESC


তবে রাজ্যপাল দেখা করতে চাইলেও শনিবার সেই তলব এড়ালেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিন্হা। এপ্রসঙ্গে রাজ্য নির্বাচন কমিশনার জানিয়েছেন যে, এই মুহূর্তে মনোনয়ন পত্রের স্ক্রুটিনি রয়েছে। তাই তিনি আজ রাজ্যপালের তলবে শনিবার রাজভবনে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে যেতে পারছেন না। শনিবার ছাড়া অন্য যে কোনও দিন তলব করলে তিনি যেতে পারবেন বলে জানা যাচ্ছে। অন্যদিকে, রাজ্য নির্বাচন কমিশনার না গেলেও আজই ক্যানিংয়ে উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। সূত্রের খবর, সকালেই বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের সঙ্গে বৈঠক করেন রাজ্যপাল। এরপরেই তাঁর ক্যানিং যাওয়ার খবর সামনে এসেছে।

জানা গিয়েছে, শনিবার রাজভবনে রাজ্যপাল সি ভি বোসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গিয়েছিলেন বাংলার বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। মূলত পঞ্চায়েত ভোট নিয়ে দীর্ঘক্ষণ রাজ্যপাল-সুকান্তের বৈঠক চলে। এরপরেই শনিবার রাজভবন থেকে বেরিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার জানান, রাজ্যে সন্ত্রাস করছে তৃণমূল। পঞ্চায়েত ভোটে হিংসা ছড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে শাসকদল। এমনকি বহু পঞ্চায়েত মনোনয়নের কেন্দ্রে বলপূর্বক বিরোধীদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে দেওয়া হয়নি বহু পঞ্চায়েত মনোনয়নের কেন্দ্রে। আর যারা যারা মনোনয়ন জমা দিতে সক্ষম হয়েছে, তাঁদের ওপরেও প্রত্যাহার করার জন্য চাপ তৈরি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তারপরেই রাজ্যপাল নিজের যাবতীয় কর্মসূচি বাতিল করে ক্যানিংয়ে যাওয়ার সিন্ধান্ত নিয়েছেন বলেই জানা যাচ্ছে।



ইতিমধ্যেই, বাংলায় মনোনয়ন জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিক্ষিপ্ত অশান্তির অভিযোগে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় শাসক বিরোধী দলগুলি। এরপরেই রাজ্য পুলিশের ব্যর্থতার কথা তুলে পঞ্চায়েত ভোটে রাজ্যের সব জেলায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে হবে বলে নির্দেশ দেয় কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানমের বেঞ্চ নির্দেশ। এই প্রসঙ্গে বৃহস্পতিবার রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব জানিয়েছিলেন, হাইকোর্ট যা নির্দেশ দিয়েছে, তা কার্যকর করব। কিন্তু শেষ পর্যন্ত শুক্রবার হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে শনিবার সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছে রাজ্য সরকার এবং রাজ্য নির্বাচন কমিশন। জানা যাচ্ছে, শনিবার শীর্ষ আদালত বন্ধ থাকায় ‘ই-ফাইলিং’এর মাধ্যমে রাজ্যের পক্ষ থেকে আবেদন জানানো হয়েছে।
মনোনয়ন পত্রের স্ক্রুটিনি রয়েছে, তলব এড়ালেন নির্বাচন কমিশনার








