যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের পড়ুয়ার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। এবার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এবং কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুভাষ সরকার রাজ্যের শিক্ষা মন্ত্রী ব্রাত্য বসুকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার আহ্বান জানালেন। ঠিক কী বলেছেন সুভাষ?
আজ বাইশে শ্রাবণ। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণদিবস। আর আজ, রাজভবনে কবিগুরুর প্রয়াণ দিবস পালনের অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রনাথের বিখ্যাত ‘চিত্ত যেথা ভয় শূন্য উচ্চ যেথা শির’ কবিতাকে কিছুটা পাল্টে নাম না করে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে কটাক্ষ করলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। তিনি বলেন, “রবীন্দ্রনাথের ঠাকুরের বাংলা ‘সন্ত্রাস, হিংসা, দুর্নীতিতে ভরে গিয়েছে’, সে কারণে আমার ‘চিত্ত ভয়যুক্ত’, ‘মাথা হেঁট’ হয়ে রয়েছে”। এবার বোসকে জবাব দিলেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু।
পশ্চিমবঙ্গের সরকার আগেই বিধানসভায় স্পষ্ট করেছে যে তাঁরা কেন্দ্রের নীতি মানতে রাজি নয়। এই কারণেই বাংলায় নতুন শিক্ষানীতি আসবে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় বদল আসবে। উঠে যাবে বার্ষিক পরীক্ষার চল।
সোমবার বিধানসভার প্রশ্নোত্তর পর্বে ডেবরার তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর জিজ্ঞেস করেন, কেন্দ্রের জাতীয় শিক্ষানীতি কি গ্রহণ করেছে রাজ্য? এই প্রশ্নের জবাবে ব্রাত্য বসু বলেন, “রাজ্যে জাতীয় শিক্ষানীতি মানা হয়নি। রাজ্য সরকার মেনে নিয়েছে বলে একটা ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে। রাজ্যের কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ডিগ্রি কোর্সের মেয়াদ তিন বছর থেকে বাড়িয়ে চার বছর করা হয়েছে। এটা না করলে ৭ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ নিয়ে সমস্যা হত”।
দেশ তথা রাজ্যে উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে নানান বাধাবিপত্তির সম্মুখীন হতে হয় পড়ুয়াদের, বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপকের অভবে ধুঁকছে এবং সব মিলিয়ে যে সংকটজনক পরিস্থিতি, তার প্রতিবাদেই একটি জাতীয় স্তরের আলোচনা সভা ডাকলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তথা উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন আচার্য ওম প্রকাশ মিশ্র। আগামী ২ রা অগস্ট অর্থাৎ বুধবার কলেজ স্ট্রিটের কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউনিভার্সিটি হলে আলোচনা সভাটির আয়োজন করা হয়েছে। আলোচনায় অংশ নেবেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু সহ বিশিষ্ট শিক্ষাবিদরা।
কলকাতা, যাদবপুর, কল্যাণী, বাঁকুড়া, বর্ধমান, সিধো-কানো-বিরসা বিশ্ববিদ্যালয় সহ ১১ টি বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থায়ী উপাচার্য নিয়োগ করেন রাজ্যের আচার্য তথা রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। প্রথম থেকেই এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যের উচ্চশিক্ষা দফতরের সঙ্গে বিনা আলোচনায় এই নিয়োগ করা হয়েছে। এমনকি নবনিযুক্ত উপাচার্যদের নিয়োগপত্র গ্রহণ না করার আবেদন জানিয়েছিলেন তিনি।
গত ১০ মে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু টুইটে জানান, “১৯ মে, শুক্রবার সকাল ১০ টায় মাধ্যমিক ২০২৩-এর ফলাফল প্রকাশিত হবে।” মাধ্যমিক পরীক্ষার সময়ে উপনির্বাচন থাকায় সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়। ২৭ ফেব্রুয়ারি ইতিহাস পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। ওই দিনই মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘি বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। সেই কারণে ২৭ ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে ১ মার্চ ইতিহাস পরীক্ষা নেওয়া হয়। মার্চের ৪ তারিখ শেষ হয় মাধ্যমিক পরীক্ষা।