১৪০ কিলোমিটার বেগে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, ওডিশার ৫ জেলায় রেড অ্যালার্ট! বাংলায় কতটা প্রভাব?

বঙ্গোপসাগরের গভীর নিম্নচাপ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। ওডিশার পাঁচ জেলায় লাল সতর্কতার মধ্যে ২৭ অক্টোবর থেকে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বঙ্গোপসাগরে ক্রমশ শক্তি বাড়াচ্ছে গভীর নিম্নচাপ। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, অনুকূল পরিস্থিতি বজায় থাকলে এই নিম্নচাপ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে তার নাম হবে ‘অর্ণব’ (Arnab)। সম্ভাব্য গতিপথ নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ। অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়টি। ইতিমধ্যেই সতর্কতা জারি করেছে ওডিশা প্রশাসন। দক্ষিণ ওডিশার পাঁচটি জেলায় জারি হয়েছে লাল সতর্কতা (Red Alert)। বন্ধ রাখা হচ্ছে স্কুল, কলেজ ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, ঘূর্ণিঝড়ের সরাসরি প্রভাব না পড়লেও পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়া কতটা বদলাবে? কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে কবে থেকে বৃষ্টি বাড়তে পারে?

ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (India Meteorological Department বা IMD)-এর ২৫ অক্টোবরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, পূর্ব-মধ্য ও সংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরের উপর থাকা গভীর নিম্নচাপটি আরও শক্তিশালী হতে পারে। ২৬ অক্টোবর সকালের মধ্যে সেটি ঘূর্ণিঝড়ে এবং ২৭ অক্টোবরের মধ্যে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে ২৮ অক্টোবর সকালে অন্ধ্রপ্রদেশের বাপটলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী উপকূলবর্তী এলাকায় আছড়ে পড়তে পারে বলে পূর্বাভাস। স্থলভাগে প্রবেশের সময় ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১২৫ কিলোমিটার হতে পারে, দমকা হাওয়ার সর্বোচ্চ গতিবেগ পৌঁছতে পারে ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটারে। তবে ঘূর্ণিঝড়ের শক্তি, গতিপথ ও আছড়ে পড়ার সময় সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য পরবর্তী বুলেটিনের দিকে নজর রাখা জরুরি।
[ঘূর্ণিঝড় কী? কীভাবে তৈরি হয়, কতটা বিপজ্জনক এবং ঘূর্ণিঝড়ের সময় কী করবেন]

ওডিশায় কেন এত সতর্কতা? সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে প্রবল বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে ওডিশার দক্ষিণাঞ্চলে। গঞ্জাম, গজপতি, রায়গড়া, কোরাপুট ও মালকানগিরি—এই পাঁচ জেলায় ২৮ অক্টোবরের জন্য লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কয়েকটি এলাকায় অতি ভারী থেকে অত্যন্ত ভারী বৃষ্টি হতে পারে। বৃষ্টির সঙ্গে ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে হাওয়া বইতে পারে, দমকা হাওয়ার গতিবেগ পৌঁছতে পারে ঘণ্টায় ৭০ কিলোমিটারে। পাহাড়ি এলাকায় অতিবৃষ্টির কারণে ভূমিধসের আশঙ্কাও রয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্ক ওডিশা প্রশাসন। ২৮ ও ২৯ অক্টোবর পাঁচটি জেলার স্কুল, কলেজ ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। উদ্ধারকারী দল, দমকল ও জরুরি পরিষেবাকে সতর্ক রাখা হচ্ছে। সমুদ্র উত্তাল হওয়ার আশঙ্কায় মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। যাঁরা ইতিমধ্যেই গভীর সমুদ্রে রয়েছেন, তাঁদের উপকূলে ফিরে আসার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

বাংলায় কতটা প্রভাব পড়বে? ঘূর্ণিঝড়টি সরাসরি পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে আছড়ে পড়ার পূর্বাভাস নেই। তবে তার প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ায় পরিবর্তন আসতে পারে। আবহাওয়া সংক্রান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৭ অক্টোবর থেকে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টি শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ২৮ থেকে ৩০ অক্টোবরের মধ্যে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে কিছু এলাকায়। উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি দমকা হাওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।

দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামের মতো জেলায় বৃষ্টির প্রভাব তুলনামূলক বেশি হতে পারে বলে পূর্বাভাসে ইঙ্গিত রয়েছে। বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার মতো জেলাতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের অন্য অংশে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। তবে জেলার ভিত্তিতে বৃষ্টির সময়, পরিমাণ ও হাওয়ার গতিবেগের পূর্বাভাস বদলাতে পারে। তাই নির্দিষ্ট কোনও এলাকায় কখন কতটা বৃষ্টি হবে, তা জানতে সর্বশেষ জেলা-ভিত্তিক আবহাওয়া বুলেটিন দেখা জরুরি।

কলকাতায় কবে থেকে বৃষ্টি? প্রাথমিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২৭ অক্টোবর থেকে কলকাতার আকাশের পরিস্থিতি বদলাতে পারে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব বাড়লে ২৮ ও ২৯ অক্টোবর বৃষ্টির সঙ্গে দমকা হাওয়া বইতে পারে। তবে কলকাতায় সরাসরি ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়ার কোনও পূর্বাভাস নেই। সম্ভাব্য প্রভাব মূলত বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়াকেন্দ্রিক। শেষ পর্যন্ত বৃষ্টির তীব্রতা কতটা হবে, তা নির্ভর করবে বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া আবহাওয়া ব্যবস্থার গতিপথ ও শক্তির উপর।

এখন কী করবেন? ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ ও শক্তি নিয়ে আবহাওয়া দফতরের পরবর্তী আপডেটের দিকে নজর রাখুন। ভারী বৃষ্টি বা ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা জারি হলে অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়িয়ে চলুন। উপকূলবর্তী এলাকায় থাকলে প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলুন। মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়ার আগে সর্বশেষ সতর্কতা যাচাই করা জরুরি। ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস সময়ের সঙ্গে বদলাতে পারে—তাই পুরনো খবরের বদলে ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুসরণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ।

বঙ্গোপসাগরের এই আবহাওয়া ব্যবস্থা আগামী কয়েক দিনে কতটা শক্তিশালী হয় এবং তার প্রভাবে বাংলায় বৃষ্টি কতটা বাড়ে, এখন সেদিকেই নজর। অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওডিশায় সম্ভাব্য দুর্যোগের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের জন্যও আগামী কয়েক দিন আবহাওয়ার আপডেট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর