বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ ক্রমশ শক্তি বাড়ানোর পথে। ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের (India Meteorological Department বা IMD) ২৫ অক্টোবরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, রবিবারই এটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। সোমবার সকালের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় এবং মঙ্গলবার সকালে তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সিস্টেমটির সম্ভাব্য গতিপথ অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে। এর প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়াতেও পরিবর্তনের পূর্বাভাস রয়েছে; বিশেষ করে সপ্তাহের শেষ দিকে বৃষ্টি বাড়তে পারে।
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের উপকূলীয় বুলেটিন অনুযায়ী, পূর্ব-মধ্য ও সংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরের উপর থাকা নিম্নচাপটি ২৪ অক্টোবর রাত সাড়ে ১১টার অবস্থান অনুযায়ী আন্দামানের শ্রীবিজয়পুরম থেকে প্রায় ৪৭০ কিলোমিটার উত্তর-উত্তর-পশ্চিমে ছিল। বিশাখাপত্তনম থেকে এর দূরত্ব ছিল প্রায় ৮৬০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্বে। গত ছ’ঘণ্টায় সিস্টেমটি ঘণ্টায় প্রায় ৮ কিলোমিটার বেগে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে এগিয়েছে।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, রবিবার প্রথমে দক্ষিণমুখী হয়ে শক্তি বাড়াবে নিম্নচাপটি। এর পরে পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরের উপর গতিপথে বাঁক নিয়ে পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে এগোতে পারে। এই পরিবর্তিত গতিপথে শক্তি সঞ্চয় করে সোমবার সকালের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মঙ্গলবার সকালে তা তীব্র ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিতে পারে। তবে ঝড়ের শক্তি ও গতিপথের চূড়ান্ত ছবি পরবর্তী বুলেটিনের উপর নির্ভর করবে।
ঘূর্ণিঝড়টি আরও শক্তিশালী হলে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের কাছে পৌঁছতে পারে বুধবারের দিকে। তবে ঠিক কোন জায়গায় এবং কখন স্থলভাগে আছড়ে পড়বে, তা নিশ্চিত করে বলার জন্য পরবর্তী সরকারি পূর্বাভাসের অপেক্ষা করা প্রয়োজন। সম্ভাব্য গতিপথের কারণে অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলবর্তী অঞ্চলে সতর্কতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সমুদ্রের পরিস্থিতিও নজরে রাখছে আবহাওয়া দফতর। পূর্ব-মধ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরের একাধিক এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া এবং বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সমুদ্র উত্তাল থেকে অতি উত্তাল হয়ে উঠতে পারে। ফলে মৎস্যজীবীদের জন্য সামুদ্রিক সতর্কতা মেনে চলা জরুরি। পশ্চিমবঙ্গের উপকূলের ক্ষেত্রে ২৫ অক্টোবরের সকালের বুলেটিনে আবহাওয়া মূলত শুষ্ক থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। কলকাতা বন্দরে দূরবর্তী সতর্কসংকেত ১ জারি করার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট বুলেটিন।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়ায় সবচেয়ে বেশি পরিবর্তন আসতে পারে সপ্তাহের মাঝামাঝি থেকে শেষ ভাগে। IMD-র ২৫ অক্টোবরের উপবিভাগভিত্তিক সতর্কতা অনুযায়ী, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে ২৭ অক্টোবর বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ২৮ ও ২৯ অক্টোবর ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। ৩০ ও ৩১ অক্টোবরও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা উল্লেখ করা হয়েছে।
উত্তরবঙ্গ ও সিকিমের ক্ষেত্রেও সপ্তাহের শেষ দিকে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ২৯ থেকে ৩১ অক্টোবর ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দফতর। তবে কোন জেলায় কতটা বৃষ্টি হবে, তা জানতে জেলা-ভিত্তিক সর্বশেষ বুলেটিন দেখা জরুরি। আবহাওয়ার পরিস্থিতি দ্রুত বদলালে সতর্কতার মাত্রাও পরিবর্তিত হতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে শুধু ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য ল্যান্ডফল নয়, বাংলার বৃষ্টির পূর্বাভাসও নজরে রাখা প্রয়োজন। বিশেষ করে উপকূলবর্তী এলাকার বাসিন্দা, মৎস্যজীবী এবং যাঁদের বাইরে যাতায়াত করতে হয়, তাঁদের আবহাওয়া দফতরের পরবর্তী নির্দেশিকা অনুসরণ করা উচিত। ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ, শক্তি এবং স্থলভাগে প্রবেশের সম্ভাব্য সময় সম্পর্কে নতুন তথ্য এলে পূর্বাভাসেও পরিবর্তন হতে পারে।



