বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ ক্রমশ শক্তি বাড়াতে পারে। ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (India Meteorological Department বা IMD)-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২৪ অক্টোবর নিম্নচাপটি গভীরতর হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে ২৬ অক্টোবরের মধ্যে। এই আবহাওয়া ব্যবস্থার সম্ভাব্য গতিপথ উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলের দিকে। এর প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গেও আবহাওয়ার পরিবর্তন এবং বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে ২৮ থেকে ৩০ অক্টোবর গোটা বাংলায় টানা চরম দুর্যোগ হবে, এমন কোনও নিশ্চিত পূর্বাভাস এখনও নেই।
২৩ অক্টোবর প্রকাশিত কলকাতা আবহাওয়া কেন্দ্রের সামুদ্রিক বুলেটিনে জানানো হয়, পূর্ব-মধ্য ও সংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরের উপর থাকা নিম্নচাপটি ২৪ অক্টোবরের মধ্যে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এরপর ২৫ অক্টোবর আরও শক্তিশালী হয়ে ২৬ অক্টোবর সকালের মধ্যে পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পরবর্তী সময়ে সেটি পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ এবং সংলগ্ন দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলের দিকে যেতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়ার দিকে নজর রাখছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। ২৩ অক্টোবরের উপবিভাগভিত্তিক সতর্কবার্তায় গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে ২৮ ও ২৯ অক্টোবর ভারী বৃষ্টি, বজ্রবিদ্যুৎ এবং দমকা হাওয়ার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। উপ-হিমালয় সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গেও ২৯ অক্টোবর ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। অর্থাৎ, বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও রাজ্যের সব জেলায় একই সময়ে সমান দুর্যোগ হবে—এমনটা বলা যাচ্ছে না।
জ়ি ২৪ ঘণ্টার (Zee 24 Ghanta) প্রতিবেদনে ২৭ অক্টোবর থেকে আবহাওয়া বদল এবং ২৮ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। তবে প্রকাশিত IMD সতর্কবার্তায় ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের জন্য কোনও সতর্কতা ছিল না; ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস ছিল মূলত ২৮ ও ২৯ অক্টোবরের জন্য। ফলে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত দুর্যোগের ব্যাপ্তি, বৃষ্টির পরিমাণ এবং জেলার ভিত্তিতে প্রভাব সম্পর্কে আরও হালনাগাদ বুলেটিনের অপেক্ষা করা প্রয়োজন।
কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের বাসিন্দাদের জন্য এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। তবে আবহাওয়া ব্যবস্থাটি শক্তিশালী হলে বৃষ্টি, বজ্রপাত এবং দমকা হাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। নিচু এলাকায় জল জমা, যান চলাচলে বিঘ্ন বা খোলা জায়গায় থাকা সামগ্রী উড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে—যদিও এগুলি সম্ভাব্য ঝুঁকি, নিশ্চিত ঘটনা নয়।
সমুদ্র উপকূলে যাঁরা বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের দিঘা, মন্দারমণি ও সংলগ্ন উপকূলের জন্য জারি হওয়া সরকারি নির্দেশের দিকে নজর রাখা উচিত। মৎস্যজীবীদের ক্ষেত্রেও সমুদ্রের অবস্থা ও আবহাওয়া দফতরের সামুদ্রিক সতর্কতা মেনে চলা জরুরি। ঝোড়ো হাওয়া বা উত্তাল সমুদ্রের সতর্কতা থাকলে সমুদ্রে নামা কিংবা নৌকা নিয়ে বেরোনোর সিদ্ধান্ত এড়িয়ে চলতে হবে।
এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল নিম্নচাপের গতিপথ ও শক্তির পরিবর্তন। বঙ্গোপসাগরের আবহাওয়া ব্যবস্থা ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলেও তার সুনির্দিষ্ট প্রভাব নির্ভর করবে অবস্থান, গতিবেগ, উপকূলে পৌঁছনোর সময় এবং স্থলভাগে প্রবেশের পর তার গতিপথের উপর। তাই ২৮-৩০ অক্টোবরের আবহাওয়া নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর আগে IMD-র পরবর্তী বুলেটিন দেখা জরুরি।



