নজরবন্দি ব্যুরো: রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘাত লেগেই রয়েছে। সিভি আনন্দ বোস নতুন দায়িত্ব পেয়ে বাংলায় আসার পর শাসক দল তৃণমূলের সঙ্গে যে সুসম্পর্ক দেখা গিয়েছিল তা যেন এখন ফিকে হয়ে গিয়েছে। প্রতিনিয়ত বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে রাজ্য-রাজ্যপালের মতান্তর সামনে আসছে। সম্প্রতি রাজ্যের আচার্য সিভি আনন্দ বোস ১১ টি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ করেছিলেন। সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেই কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হল জনস্বার্থ মামলা।
আরও পড়ুন: করমণ্ডল বিপর্যয়ের তদন্তে দুর্ঘটনাস্থলে যেতে পারে CBI
পশ্চিমবঙ্গের ১৪ টি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নেই। বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে উপাচার্য নিয়োগের প্রয়োজন। এনিয়ে গত বুধবার রাজভবনে বৈঠক করেন রাজ্যপাল। ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যেসকল বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নেই সেখানে অস্থায়ীভাবে উপাচার্য নিয়োগ করা হবে। সেইমত গত বৃহস্পতিবার ১১ টি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে চিঠি পাঠায় রাজভবন। রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু।

জানা গিয়েছে, কলকাতা, যাদবপুর, কল্যাণী, বাঁকুড়া, বর্ধমান, সিধো-কানো-বিরসা বিশ্ববিদ্যালয় সহ ১১ টি বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থায়ী উপাচার্য নিয়োগ করেন রাজ্যের আচার্য তথা রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। প্রথম থেকেই এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যের উচ্চশিক্ষা দফতরের সঙ্গে বিনা আলোচনায় এই নিয়োগ করা হয়েছে। এমনকি নবনিযুক্ত উপাচার্যদের নিয়োগপত্র গ্রহণ না করার আবেদন জানিয়েছিলেন তিনি।

ব্রাত্য বসু বলেছিলেন, আইনি পরামর্শ নিয়ে পরিস্থিতির সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে। বিকাশ ভবনও সেইমত কাজ শুরু করেছে বলেই খবর সূত্রে। কিন্তু শিক্ষামন্ত্রীর আবেদনে বিশেষ কাজ হয়নি। জানা গিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য হিসেবে নিযুক্ত হওয়া ১০ জনই রাজ্যপালের কাছ থেকে নিয়োগপত্র নিয়েছেন। এবার হাইকোর্টে দায়ের হল জনস্বার্থ মামলা। আগামী সোমবার প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানমের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হতে পারে।
রাজ্যপালের উপাচার্য নিয়োগের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ, কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলার শুনানি




