বীরভূমে ভোটপ্রচারে এসে সেই কেষ্টর কথা মনে পড়বে না মুখ্যমন্ত্রীর? তাই কি হয়! রবিবার লাভপুরের জনসভা থেকে অনুব্রতর কথা স্মরণ করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। বললেন, একদিন কেষ্ট ঠিকই বেরোবে, তাঁকে ভুলে গেলে চলবে না।
গরু পাচার মামলায় বীরভূমের তৃণমূলের দাপুটে নেতা অনুব্রত মণ্ডলকে গ্রেফতার করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। এরপর কেটে গিয়েছে দেড় বছরের বেশি সময়। তবে তৃণমূলের নেতৃত্ব শুরু থেকেই অনুব্রতর পাশে ছিলেন।
প্রচারের মধ্যেই আচমকা এরকম ঘটনা ঘটায় প্রথমে কিছুটা আশ্চর্য হলেও পরিস্থিতি সামলে নেন সেখানকারই বিদায়ী সাংসদ শতাব্দী। মাথা গরম না করে ধৈর্য্য ধরে বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ শোনেন তিনি। কথা দেন, সমস্যা সমাধানের। এরপরই থেমে যান গ্রামবাসীরা। শেষে তাঁরা শতাব্দী রায়ের নামেই জয়ধ্বনি দেন।
বিজেপির দুবরাজপুর মন্ডল সভাপতি শম্ভুনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, "তৃণমূল তিহাড় থেকে খেলা হবে বলেছে। কিন্তু একা একা তো আর খেলা যায় না! দরকার ১১ জন। সেটাই বলা হয়েছে।"
দুবরাজপুর ব্লকের হেতমপুর গ্রামে চলছে বীরভূমের তৃণমূল প্রার্থী শতাব্দী রায়ের দেওয়াল লিখন। আর সেখানেই উল্লেখ রয়েছে অনুব্রত মণ্ডলের কথা। না, নাম নয়, বরং তার চেয়েও 'ভয়ঙ্কর' ক্যাচলাইন, ‘তিহাড়ে বসেই খেলা হবে’!
তিন তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহান, উত্তম সর্দার ও শিবু হাজরার বিরুদ্ধে একজোট গ্রামবাসীরা। উঠে এসেছে নারী নির্যাতন, গণধর্ষণের মতো ঘৃণ্য অপরাধের ঘটনা। ইতিমধ্যেই উত্তম সর্দার ও শিবু হাজরাকে গ্রেফতার করেছে বসিরহাট পুলিশ। তাঁদের বিরুদ্ধে গণধর্ষণ ও খুনের চেষ্টার ধারায় মামলা করা হয়েছে। তবে, এখনও অধরা শেখ শাহজাহান।
বিরোধীদের তরফে আবারও পরিবারবাদ রাজনীতির অভিযোগ আনা হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বিরুদ্ধে। যদিও সে অভিযোগকে নস্যাৎ করে বীরভূমের তৃণমূল নেতৃত্ব জানিয়েছে, জেলার অনেক ব্লকে বদল এসেছে, এই অঞ্চলে নীহারবাবুই যোগ্য তাই তাঁকে করা হয়েছে।