ভোটে অনিয়ম ঠেকাতে কড়া অবস্থান নিল নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)। স্পষ্ট বার্তা—পরিচয় নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলেই বোরখা বা ঘোমটা সরিয়ে যাচাই করা হবে ভোটারের পরিচয়। আসন্ন নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ বলে জানিয়েছে কমিশন, যা ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে বিতর্ক।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে ভুয়ো ভোট বা ছাপ্পা রুখতে এই নিয়ম কার্যকর করা হচ্ছে। অতীতে অভিযোগ উঠেছে, কেউ কেউ মুখ ঢেকে বুথে ঢুকে জাল ভোট দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। তবে এই যাচাই প্রক্রিয়ায় বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে শালীনতা বজায় রাখার ওপর—প্রত্যেক বুথে মহিলা কর্মী থাকবেন, তাঁরাই প্রয়োজনে মহিলা ভোটারের পরিচয় যাচাই করবেন।


এই ধরনের নিয়ম আগে বিহারের নির্বাচনে প্রয়োগ করা হয়েছিল, যা নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরও হয়েছিল। এবার পশ্চিমবঙ্গেও একই পদ্ধতি চালুর ইঙ্গিত মিলেছে। কমিশনের মতে, এর মূল লক্ষ্য একটাই—স্বচ্ছ, অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করা।
নিরাপত্তা ব্যবস্থাও এ বার নজিরবিহীন। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের প্রায় সব বুথকেই স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার বুথকে ধরা হয়েছে ‘অতি স্পর্শকাতর’ হিসেবে। প্রথম দফার ভোটে যে প্রায় ১৫০০ বুথে ভোটগ্রহণ হবে, সেখানে বিশেষ নজরদারি চালানো হবে।
এছাড়াও বুথ জ্যামিং বা দখলদারি ঠেকাতে একাধিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি বুথের ভিতরে ও বাইরে বসানো হবে সিসিটিভি ক্যামেরা, যাতে ভোট প্রক্রিয়ার প্রতিটি মুহূর্ত নজরে রাখা যায়।


সব মিলিয়ে, ভোটের আগে কমিশনের এই কড়া নির্দেশ একদিকে যেমন স্বচ্ছতা বাড়াবে, তেমনই রাজনৈতিক বিতর্কও আরও উসকে দিতে পারে বলে মনে করছে পর্যবেক্ষক মহল।








