নারী সংরক্ষণ বিল ঘিরে কেন্দ্র–রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়াল। প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi-র সাম্প্রতিক ভাষণে বিরোধীদের কড়া আক্রমণের জবাবে তীব্র পালটা দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee। সরাসরি তাঁকে নিশানা করে ‘ভণ্ডামি’ এবং ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিভ্রান্তি’র অভিযোগ তুললেন তৃণমূল নেত্রী।
শনিবার জাতির উদ্দেশে ভাষণে কংগ্রেস, ডিএমকে ও তৃণমূলকে নাম করে আক্রমণ করেন প্রধানমন্ত্রী। বিরোধীদের ‘নারী বিদ্বেষী’ বলে অভিহিত করে তিনি দাবি করেন, নারী সংরক্ষণ নিয়ে তারা আন্তরিক নয়। এই মন্তব্যের পরই সমাজমাধ্যমে দীর্ঘ প্রতিক্রিয়া জানান মমতা। তাঁর বক্তব্য, প্রকৃত সমস্যার সমাধান না করে মানুষকে বিভ্রান্ত করার পথই বেছে নিয়েছে কেন্দ্র।


মমতা স্পষ্ট করে জানান, All India Trinamool Congress বরাবরই নারীর রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর পক্ষে। পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, লোকসভায় দলের নির্বাচিত সাংসদদের মধ্যে প্রায় ৩৭.৯ শতাংশ এবং রাজ্যসভায় মনোনীত সদস্যদের মধ্যে ৪৬ শতাংশই মহিলা—যা তাঁদের অবস্থান স্পষ্ট করে।
এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। তাঁর অভিযোগ, নারী সংরক্ষণ বিলকে সামনে রেখে আসলে বৃহত্তর রাজনৈতিক কৌশল নিয়েছে কেন্দ্র। বিশেষ করে সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা ডিলিমিটেশনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন এই দুই বিষয়কে একসঙ্গে যুক্ত করা হল। তাঁর মতে, এর মাধ্যমে বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলিকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
একই সঙ্গে সময় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মমতা। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে বিল পাশ হওয়ার পর এতদিন অপেক্ষা কেন, আর নির্বাচন ঘনিয়ে আসতেই কেন তড়িঘড়ি সক্রিয়তা—এই প্রশ্নে কেন্দ্রকে চাপে ফেলতে চান তিনি। তাঁর দাবি, নারীদের উন্নয়ন নয়, বরং ভোটের রাজনীতিই এখানে মূল চালিকা শক্তি।


শেষে সরাসরি আক্রমণে গিয়ে মমতা বলেন, “ক্ষমতা হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কায় বিরোধীদের নিশানা করছেন প্রধানমন্ত্রী। এই আচরণ কাপুরুষোচিত এবং ভণ্ডামির সামিল।” তাঁর বার্তা স্পষ্ট—এই ইস্যুতে তৃণমূল আপস করবে না এবং গণতন্ত্রের স্বার্থে লড়াই চালিয়ে যাবে।








