অক্ষয় তৃতীয়ার সকালেই মগরাহাট পশ্চিমে রাজনীতির চিত্র নাটকীয়ভাবে বদলে গেল। তৃণমূল প্রার্থী সামিম আহমেদের পদযাত্রার মাঝেই তাঁর পার্টি অফিসে এসে বিরোধী শিবিরের দুই মুখ—আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী মহম্মদ আবু সিদ্দিক লস্কর এবং মিমের সংগঠক হাবিবা লস্কর—তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
সকালে কারবালা হাট জামে মসজিদ পরিদর্শনের পর উত্তর কুসুম অঞ্চলে পদযাত্রা করছিলেন সামিম আহমেদ। ঠিক সেই সময়েই তাঁর অফিসে অপেক্ষা করছিলেন ওই দুই নেতা। পরে সামিম আহমেদের হাত ধরেই তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূলে যোগ দেন। এই যোগদানকে কেন্দ্র করে বিরোধী শিবিরে বড় ধাক্কা লেগেছে বলে রাজনৈতিক মহলের মত।


আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী মহম্মদ আবু সিদ্দিক লস্কর সরাসরি জানান, সামিম আহমেদের মতো শক্তিশালী প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কোনও বাস্তব ভিত্তি নেই। তাঁর অভিযোগ, হুমায়ুন কবীর তাঁকে ভুল বুঝিয়েছিলেন এবং অর্থের বিনিময়ে সংখ্যালঘু সমাজকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হচ্ছিল। সেই অবস্থায় তিনি আর সেই রাজনীতির সঙ্গে থাকতে চাননি। তাই মমতা বন্দোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আস্থা রেখে তিনি তৃণমূলে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
মগরাহাট পশ্চিমে সামিমের ম্যাজিক! তৃণমূলে যোগ দিলেন হুমায়ুনের প্রার্থী, ভাঙন আসাদউদ্দিনের মিম-এও

অন্যদিকে, মিমের নেত্রী হাবিবা লস্করও স্পষ্ট ভাষায় বলেন, পশ্চিমবঙ্গে মিমের সংগঠন এখনও শক্ত ভিত গড়ে তুলতে পারেনি। ভবিষ্যতে কিছু করতে পারলেও তা সময়সাপেক্ষ। এলাকার মানুষের স্বার্থে দ্রুত কাজ করার জন্যই তিনি সামিম আহমেদের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।


এদিকে, গত কয়েকদিন ধরে মগরাহাট পশ্চিমের একাধিক গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় আইএসএফ, মিম এবং আম জনতা উন্নয়ন পার্টির সমর্থকদের তৃণমূলে যোগদানের প্রবণতা স্পষ্ট। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধারাবাহিক যোগদান তৃণমূল প্রার্থী সামিম আহমেদের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করছে এবং আসন্ন নির্বাচনে তাঁর একতরফা জয় প্রায় নিশ্চিত বলেই মনে করা হচ্ছে।
সামিম আহমেদ নিজেও এই যোগদানকে মানুষের সমর্থনের প্রতিফলন বলে উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য, বাংলার মানুষ উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার পক্ষে। তিনি দাবি করেন, মমতা বন্দোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের দেখানো পথেই সাধারণ মানুষ এগোতে চান। পাশাপাশি বিজেপির বিরুদ্ধে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, অর্থের জোরে রাজনীতি বাংলার মানুষ মেনে নেবে না।








