গরু পাচার মামলায় বীরভূমের তৃণমূলের দাপুটে নেতা অনুব্রত মণ্ডলকে গ্রেফতার করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। এরপর কেটে গিয়েছে দেড় বছরের বেশি সময়। তবে তৃণমূলের নেতৃত্ব শুরু থেকেই অনুব্রতর পাশে ছিলেন। লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বুধবার বীরভূমে জরুরী বৈঠক করেন তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Anubrata Mandal-Abhishek Banerjee)। কেষ্ট গড়ে দাঁড়িয়ে বিজেপিকে তোপ দাগলেন তিনি।



আরও পড়ুন: দেব-হিরণের দ্বৈরথে হাইভোল্টেজ ঘাটাল, তৃণমূলের তারকা প্রার্থীর হয়ে প্রচারের ময়দানে অভিষেক
অনুব্রত মণ্ডলের জেলে যাওয়ার পর প্রথম লোকসভা নির্বাচন। যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) কেষ্ট একা হাতেই ভোটের দায়িত্ব নিতেন তিনি এখন বাংলা থেকে দূরে তিহাড়ে বন্দী। তাই আসন্ন নির্বাচনে ভালো ফল করতে কৌশল তৈরি করছে শাসক দল। এদিন বীরভূমের জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট নিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন তিনি। এরপর বাইরে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। সেখানেই তাঁকে অনুব্রত মণ্ডলকে নিয়ে প্রশ্ন করা হলে পাল্টা বিজেপিকেই (BJP) নিশানায় আনেন অভিষেক।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘যেভাবে অজিত পাওয়ার, শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari), হিমন্ত বিশ্বশর্মা বিজেপিতে গিয়েছেন, অনুব্রত মণ্ডল যদি আজকে বিজেপিতে চলে যেত তাহলে ধোয়া তুলসী পাতা হয়ে যেত। বিজেপিতে যায়নি তাই জেল খাটছে।’ আরও বলেন, ‘গরু পাচার মামলায় অনুব্রতকে গ্রেফতার করা হয়েছে দেড় বছর আগে। অথচ দশদিন আগে মেমারিতে বিহার-উত্তর প্রদেশ থেকে গরু আসছিল, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ ধরেছে।’ প্রশ্ন তোলেন, ‘বিহার, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী কি তৃণমূলের? উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার, একজন বিজেপি আরেকজন বিজেপির শরিক দল। তাঁদের কেন সমন পাঠাচ্ছে না ইডি, এটাই হচ্ছে বিজেপির ওয়াশিং মেশিন।’


গ্রেফতারির দেড় বছর পরও কেষ্টর পাশে দল, বীরভূমে দাঁড়িয়ে বিজেপিকে তোপ অভিষেকের

তৃণমূলের অন্দরেই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের অভিযোগ উঠে এসেছে বারবার। ২০১৯-এ বেশ কয়েকটি আসন হাতছাড়া হওয়ার কারণ হিসেবে ধরা হয় এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বকেই। সেকথা মাথায় রেখে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে কোনও খামতি রাখতে চায় না শাসক শিবির। তাই আগে থেকেই দলীয় কর্মীদের কড়া বার্তা দিচ্ছে নেতৃত্ব। বুধবার এনিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কোথাও কোনও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব থাকলে তা সমাধান করে ভোটে মনোযোগ দেওয়ার কথা বলেন।








