দেশের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নতুন ইতিহাস গড়ার দিনেই কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একটানা সবচেয়ে দীর্ঘ সময় নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের নজির গড়ার পর এনডিএ-র সম্মেলনের মঞ্চ থেকে তিনি দাবি করেন, গত ১২ বছরে দেশের অন্যতম বড় সাফল্য হল দুর্নীতিগ্রস্ত প্রশাসনিক সংস্কৃতি থেকে ভারতকে মুক্ত করা।
বুধবার দিল্লিতে আয়োজিত এনডিএ-র বিশেষ বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোদি বলেন, ২০১৪ সালে তিনি যখন দেশের দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন প্রশাসনিক ব্যবস্থার নানা স্তরে দুর্নীতি গভীরভাবে প্রোথিত ছিল। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির কাঠামো তৈরি হয়েছিল, যার প্রভাব দেশের উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের জীবনে পড়েছিল।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্যও। তিনি বলেন, আজ দেশের মানুষ শুধু মৌলিক চাহিদা পূরণের কথা ভাবছেন না, বরং উন্নত ও আত্মনির্ভর ভারতের স্বপ্ন দেখছেন। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার নিরন্তর কাজ করে চলেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
মোদি বিশেষভাবে নতুন মধ্যবিত্ত শ্রেণির প্রসঙ্গ তুলে বলেন, যাঁরা একসময় আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলেন, তাঁরা এখন উন্নয়নের মূল স্রোতে যুক্ত হয়েছেন। তাঁদের জীবনযাত্রার মান আরও উন্নত করা এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, দেশের ১৪০ কোটিরও বেশি মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করাই সরকারের প্রধান দায়িত্ব। যুবসমাজ, কৃষক, নারী এবং মধ্যবিত্তদের আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দিয়েই আগামী দিনের নীতি ও পরিকল্পনা তৈরি করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
কোভিড মহামারির কঠিন সময়ের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, বিশ্বের বহু অর্থনীতি ধাক্কা খেলেও ভারত দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে। শুধু তাই নয়, সাম্প্রতিক অর্থবর্ষে দেশের প্রবৃদ্ধির হারও ইতিবাচক থেকেছে, যা ভারতের অর্থনৈতিক সক্ষমতার পরিচয় বহন করে।
প্রসঙ্গত, বুধবার নরেন্দ্র মোদি নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে টানা ৪,৩৯৯ দিন দায়িত্ব পালনের নজির গড়েছেন। এর ফলে তিনি স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে একটানা সবচেয়ে দীর্ঘ সময় নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নতুন রেকর্ড স্থাপন করেন।
এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে মোদি বলেন, নেতৃত্বের মূল ভিত্তি হওয়া উচিত বিনয় এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা। তবে সেই বার্তার পাশাপাশি কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তাঁর রাজনৈতিক আক্রমণও ছিল সমান তীক্ষ্ণ। আগামী দিনে উন্নয়ন, সুশাসন এবং দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি নিয়েই এগিয়ে চলার বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী।



