দিঘার জগন্নাথ মন্দিরকে ঘিরে দীর্ঘদিনের বিতর্কে বড় সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। ‘জগন্নাথধাম’ নাম থেকে ‘ধাম’ শব্দটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহারের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ফলে এখন থেকে দিঘার এই ধর্মীয় কেন্দ্রের নতুন নাম হবে ‘শ্রীশ্রীজগন্নাথ মন্দির সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’।
মঙ্গলবার নবান্নে এক সাংবাদিক বৈঠকে এই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর পাশে উপস্থিত ছিলেন পুরীর সাংসদ সম্বিত পাত্র এবং মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়াল। সেখানেই নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে শুভেন্দু বলেন, দিঘার মন্দিরের সঙ্গে আর ‘ধাম’ শব্দ ব্যবহার করা হবে না।
দিঘায় জগন্নাথ মন্দির প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই নামকরণ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছিল। বিভিন্ন মহলের প্রশ্ন ছিল, যখন ঐতিহ্যগতভাবে ‘জগন্নাথধাম’ নামে পরিচিত স্থান ওড়িশার পুরী, তখন দিঘার মন্দিরের নামের সঙ্গে একই শব্দ যুক্ত করার প্রয়োজন কী?
সেই বিতর্ক রাজনৈতিক ও ধর্মীয় দুই ক্ষেত্রেই ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছিল। বিরোধীদের একাংশ অভিযোগ তুলেছিল, ‘ধাম’ শব্দের ব্যবহার বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে এবং পুরীর ঐতিহাসিক পরিচয়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
তৎকালীন সরকার অবশ্য এই বিতর্কে অবস্থান বদলায়নি। কিন্তু রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর বিষয়টি নতুন করে পর্যালোচনা করা হয়। তারই ফলস্বরূপ মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে নাম পরিবর্তনের ঘোষণা এল।
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, শুধুমাত্র নামের পরিবর্তন হচ্ছে। মন্দিরে নিয়ম মেনে পুজো, আরতি, ভজন এবং অন্যান্য ধর্মীয় কার্যক্রম আগের মতোই চলবে। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে কোনও পরিবর্তন আনা হচ্ছে না।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধু প্রশাসনিক নয়, প্রতীকী দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দিঘার জগন্নাথ মন্দিরকে কেন্দ্র করে অতীতে বহুবার রাজনৈতিক বিতর্ক এবং ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
দিঘার অন্যতম আকর্ষণ হয়ে ওঠা এই মন্দিরের নতুন নাম কার্যকর হওয়ার পর ভবিষ্যতে সরকারি নথি, সাইনবোর্ড এবং প্রচারসামগ্রীতেও সেই পরিবর্তন প্রতিফলিত হবে বলে প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।
দীর্ঘদিনের বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে ‘জগন্নাথধাম’ থেকে ‘জগন্নাথ মন্দির’-এ নাম বদলের এই সিদ্ধান্ত রাজ্যের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মহলে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।



