হজরতপুর পঞ্চায়েতের নিচ কাদামা গ্রামের বিজেপি কর্মী সমর্থকদের অভিযোগ তাঁরা অনেকেই ভোট দিতে পারেননি। বুথে প্রায় ৩০০ ছাপ্পা ভোট দিয়েছে তৃণমূল বলেও অভিযোগ জানান তাঁরা। তাছাড়া, মহিলাদের অনেকে বলেন, তাঁদের স্বামীদের প্রতিনিয়ত মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। পুলিশ এবং তৃণমূলের গুন্ডারা বাড়িতে এসে ভোটের পরদিনও মারধর করছে বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন গ্রামের মহিলারা। এদিন সুকান্ত মজুমদার বিজেপি কর্মীদের বাড়িতে ঘুরে ঘুরে তাঁদের আশ্বস্ত করেন। এরপর প্রশাসনকে হস্তক্ষেপ করার দাবি জানালে পুলিশের সাথে ঝামেলা শুরু হয় বিজেপি রাজ্য সভাপতির। পুলিশের মতে, সুকান্ত যাদের আক্রান্ত হবার কথা বলছেন তাঁরা কেউ এই এলাকার বাসিন্দা নয়। পাল্টা সুকান্ত মজুমদার পুলিশকে দায়িত্বহীন বলে কটাক্ষ করেন
ময়ূরেশ্বর-১ ব্লকের ডাবুক পঞ্চায়েতের হাজিপুর ভোটের আগের দিন থেকেই উত্তপ্ত। অভিযোগ ছিল, শুক্রবার তৃণমূল প্রার্থীকে লক্ষ্য করে বোমা ছুঁড়েছে সিপিএম। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান তৃণমূল প্রার্থী আপেল হক। এবার ময়ূরেশ্বরের মাঝিপাড়ায় বুথ দখলকে কেন্দ্র করে ঝামেলা শুরু হয়। ঝামেলা চরম আকার ধারণ করলে পুলিশ আসে পরিস্থিতি নিয়মত্রণে আনতে। তখন পুলিশের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ান দু’দলের কর্মীরাই। এরপর পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাঁধে তাঁদের। ভাঙচুর করা হয় পিলিশের গাড়ি। পুলিশকে ঘেরাও পর্যন্ত করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে ভেবে অতিরিক্ত পুলিশ বানিহী ও আধা সেনা নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ি ও কয়েকজন পুলিশকর্মীকে উদ্ধার করা গিয়েছে। পুলিশের কোনও কর্মী সেভাবে আহত হননি। এই ঘটনায় অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে এবং দ্রুত গ্রেফতারও করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
লালগোলায় তৃণমূল সিপিএম সংঘর্ষ। ফের মৃত্যু হল এক বাম কর্মী তথা সমর্থকের। মৃত সিপিএম কর্মীর নাম রওশন আলি। এই ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেসকে দায়ী করেছে সিপিএম। ইতিমধ্যেই পঞ্চায়েত ভোটের প্রথম ছয় ঘন্টায় মৃত্যু হয়েছে ১২ জনের।
নজরবন্দি ব্যুরো: শনিবাসরীয় ভোটদিবসের শেষ হল প্রথমার্ধ। প্রথম পাঁচ ঘন্টাতেই হিংসার বলি হলেন ৭ জন। কমিশনের দেওয়া রিপোর্ট অনুসারে ভোট পড়েছে ২২.৬০ শতাংশ। রাজ্যের...
পঞ্চায়েত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সকাল থেকে উত্তপ্ত রাজ্যের নানান প্রান্ত। আনাচ কানাচ থেকে ভেসে আসছে একের পর এক অশান্তির ঘটনা। এবার নদীয়ার চাপড়ায় কুপিয়ে খুন করা হল তৃণমূল কর্মী আমজাদ হোসেনকে (৫২)। এই ঘটনায় শাসক দলের অভিযোগের তির সরাসরি কংগ্রেসের দিকে।
থেমে গেল লড়াই। মৃত্যু হল পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামের সিপিএম কর্মী রাজিবুল হকের (৩২)। শুক্রবার তৃণমূল সিপিএম সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়েছিলেন রাজিবুল। এরপর তাঁকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়। কিন্তু দ্রুত শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে কলকাতার এনআরএসে স্থানান্তরিত করা হয়। কিন্তু, বাঁচানো গেল না রাজিবুলকে। এনআরএসেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন সিপিএম কর্মী।
আগামী ৮ তারিখ রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচন। আর ভোটের নির্ঘন্ট প্রকাশের সাথে সাথেই রাজ্যের নানান প্রান্ত থেকে ভেসে আসছে হিংসা খুনোখুনির মতো ঘটনা। ভাঙড় থেকে দিনহাটা, দত্তপুকুর থেকে খড়দহ- তালিকাটা সত্যিই লম্বা। কোথাও বিরোধীদের অভিযোগ শাসক দলের বিরুদ্ধে, আবার কোথাও শাসক দলের অভিযোগ বিরোধীদের দিকে। ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক হিংসায় মৃত্যু হয়েছে ১১ জনের। আর এই মুহূর্তে যেখানে যেখানে সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটেছে সেই এলাকাগুলি পরিদর্শনে যাচ্ছেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। আর ঠিক এই জায়গাতেই আপত্তি রয়েছে শাসক দল তৃণমূলের। তাঁদের বক্তব্য, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার ভার রাজ্যের প্রশাসনের এবং কমিশনের, রাজ্যপালের নয়। তাই রাজ্যপাল এই সব ঘটনায় গিয়ে নিজে তদন্তের ভার নিতে পারেন না বলে চিঠিতে উল্লেখ করেছে তৃণমূল।