আগে একটা বালতি উল্টে দেখাক, সরকার উল্টোনোর কথা তারপর বলবে, বিজেপি নেতাদের ‘পাঁচ মাসের মধ্যে বাংলায় সরকার পড়ে যাবে’ মন্তব্যের জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার পঞ্চায়েত ভোটে আহত তৃণমূল কর্মীদের দেখতে এসএসকেএম হাসপাতালে এসে এই মন্তব্য করলেন তিনি।
গত দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে অশান্ত উত্তর পূর্বের রাজ্য মণিপুর। এবার হিংসা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে মণিপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দিল তৃণমূলের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল। এই দলে রয়েছেন ডেরেক ও’ব্রায়েন, দোলা সেন, কাকলি ঘোষদস্তিদার, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, এবং সুস্মিতা দেব। ইম্ফলে গিয়ে তাঁরা ত্রাণের ব্যবস্থা করবেন এবং মহিলা ও শিশুরা যেখানে বেশি আক্রান্ত সেই জায়গাগুলির পরিস্থিতিই তাঁরা খতিয়ে দেখবেন।
পঞ্চায়েতের ভোট গণনা চলাকালীনই পাছে তিনি হেরে যান ভেবে গণনাকেন্দ্রে ঢুকে ব্যালট পেপার চিবিয়ে খেয়ে নিয়েছিলেন হাবড়ার ভুরকুণ্ডা গ্রামের ৩১ নম্বর বুথের তৃণমূল প্রার্থী মহাদেব মাটি। সিপিএমের তরফে অভিযোগ ছিল, ওই কেন্দ্রে তাঁদের প্রার্থী চার ভোটে জিতছিল। কিন্তু ব্যালট খেয়ে লাভ হল না। কারণ, নির্বাচন কমিশন মহাদেবের বুথ সহ প্রায় ২০টি বুথের ভোট বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিল।
দু’দিন ধরে গণনার পর অবশেষে প্রকাশিত হল পঞ্চায়েত ভোটের ফলাফল। যদিও আদালতের রায়েই চূড়ান্ত হবে জয় পরাজয়ের হিসেব। সে যত কাণ্ডই হোক না আদালতে, রাজ্যের প্রতিটা জেলায় একাধিপত্য বজায় রেখে পঞ্চায়েত রাজ নিজেদের দখলেই রাখল শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। মানুষের বিশ্বাস যে এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর থেকে পুরোপুরি সরে যায়নি, তা আরও একবার প্রমাণিত। তবে, একটা বিষয় ঠিক যে, রাজ্যে এই মুহূর্তে বিরোধী দলের সংখ্যা চার, অন্তত বড়ো দলগুলির নিরিখে। আবার, অন্যান্য ও নির্দল তো আছেই। আর যে কারণে পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছে, বিরোধী ভোট ভাগাভাগিই তৃণমূলের জয়ের চাবিকাঠি।
বীরভূমের রামপুরহাট এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের পাঁচ নম্বর আসনে পঞ্চায়েত সমিতিতে তৃণমূলের টিকিটে দাঁড়িয়েছিলেন পম্পা মুখ্যোপাধ্যায়। তিনি আবার সম্পর্কে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৌমা। সেখানেই বিজেপি প্রার্থী সুদেষ্ণা মুখ্যোপাধ্যায়ের কাছে ৩৬ ভোটে পরাজিত হলেন তিনি। যদিও প্রথমে রটে গিয়েছিল, জিতেছেন পম্পাই। কিন্তু রাতের বেলা চূড়ান্ত ফলপ্রকাশ হতেই দেখা গেল পরিসংখ্যান উল্টে বিজেপি ৩৬ ভোটে জয়লাভ করেছে।
আগামী বছর লোকসভা নির্বাচন। আর তার ঠিক আগেই পঞ্চায়েতে তৃণমূলের একাধিপত্য কিন্তু বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলার জন্য যথেষ্ট। পঞ্চায়েতের ফলপ্রকাশে দেখা গেল, সব জেলাতেই জয়জয়কার শাসক দলের। কিন্তু তার মধ্যেও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য মুর্শিদাবাদে তৃণমূলের ব্যাপক সাফল্যের ঘটনা। আর যে ঘটনায় কি কিছুটা চিন্তিত প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী।